Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের হাত ধরে পালটেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের নারীদের জীবন (Subhasree-Ankush)। ঘরে ঘরে স্বনির্ভর হয়েছেন মা-বোনেরা। নারীর ক্ষমতায়ন কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি দীর্ঘ সামাজিক যাত্রা। এই যাত্রায় আত্মসম্মান, আর্থিক স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সবকিছু মিলেই গড়ে ওঠে এক নতুন পরিচয়। সেই পরিচয়ের কথাই বলছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যমূলক চলচ্চিত্র ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’। এটি কোনও নিছক প্রচারচিত্র নয়, বরং রাজ্যের প্রান্তিক নারীদের জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব পরিবর্তনের এক মানবিক আখ্যান। এই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক নারীর জীবনসংগ্রাম, যার গল্প একার নয়, বরং রাজ্যের অসংখ্য মা-বোনের প্রতিচ্ছবি।

গল্পের কেন্দ্রে এক নারী, তার লড়াই এবং পুনর্জন্ম (Subhasree-Ankush)
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’-র গল্প আবর্তিত হয়েছে গ্রামবাংলার এক সাধারণ নারীর জীবনকে ঘিরে। স্বামীহারা হয়ে, সামাজিক অবহেলা ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের ভার বইতে বইতে সে যখন প্রায় ভেঙে পড়েছে, ঠিক তখনই তার জীবনে আসে এক নতুন দিশা। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অভিনয়ে ধরা পড়েছে অসহায়তার গভীরতা, আবার ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার দৃঢ়তা। এই নারী একসময় বুঝতে শেখে সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন সুযোগ। আর সেই সুযোগই আসে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে। নিজের অধিকার সম্পর্কে অবগত হয়ে সে এগিয়ে যায় আত্মনির্ভরতার পথে। এই পরিবর্তনের সঙ্গী হিসেবে দেখা যায় অঙ্কুশ হাজরাকে, যিনি ছবিতে সচেতনতার বার্তাবাহক।
সম্পর্কের সমীকরণ বদলের গল্প (Subhasree-Ankush)
এই চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এখানে কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথাই বলা হয়নি। দেখানো হয়েছে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তনও। শাশুড়ি-বউমার মধ্যে যে তিক্ততা, অবিশ্বাস ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে, তা ধীরে ধীরে গলে যেতে শুরু করে যখন বউমা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। স্বনির্ভরতা এখানে কেবল আয় নয় এটি সম্মানের ভাষা। বউমার নতুন পরিচয় বদলে দেয় পরিবারে তার অবস্থান, বদলে দেয় দৃষ্টিভঙ্গি। এই পরিবর্তন নীরব, কিন্তু গভীর।

উন্নয়নের প্রকল্প নয়, জীবনের সহযাত্রী (Subhasree-Ankush)
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’তে একাধিক রাজ্য সরকারি প্রকল্পের কথা উঠে এসেছে, কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, পথশ্রী, আনন্দধারা এই সব প্রকল্পকে এখানে সংখ্যার খাতায় নয়, মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। কন্যাশ্রী মেয়েদের পড়াশোনার অধিকার নিশ্চিত করেছে। স্বাস্থ্যসাথী দিয়েছে চিকিৎসার নিশ্চয়তা। আনন্দধারা ও অন্যান্য স্বনির্ভর গোষ্ঠী প্রকল্প খুলে দিয়েছে উপার্জনের দরজা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এনে দিয়েছে ঘরের অর্থনীতিতে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি। এই সব মিলেই এক নতুন সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে নারী আর কেবল ভরসার পাত্র নয় সে নিজেই ভরসা।
উন্নয়ন মানে পরিসংখ্যান নয়, সম্মান (Subhasree-Ankush)
এই চলচ্চিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে উন্নয়ন কাকে বলে? রাস্তা, সেতু, প্রকল্পের সংখ্যাই কি উন্নয়ন? না কি উন্নয়ন মানে সেই আত্মবিশ্বাস, যা একজন নারী নিজের চোখে ফিরে পায়? ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ উন্নয়নকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। এখানে উন্নয়ন মানে হল মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার। উন্নয়ন মানে হল সাহায্যের হাত নয়, শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গি ছবিটিকে একটি রাজনৈতিক ডকুমেন্টের বদলে সামাজিক দলিলে রূপ দিয়েছে।
১৫ বছরের পথচলার প্রতিফলন (Subhasree-Ankush)
মা–মাটি–মানুষের দর্শনের ১৫ বছরের পথচলার প্রেক্ষাপটে এই চলচ্চিত্র যেন এক সংক্ষিপ্ত আত্মসমীক্ষা। কীভাবে রাজ্যের নীতিনির্ধারণ ধীরে ধীরে মানুষের ঘরে ঢুকেছে, কীভাবে প্রকল্প নেমে এসেছে দৈনন্দিন জীবনে তা এই ছবির প্রতিটি দৃশ্যে স্পষ্ট। এখানে উন্নয়ন কোনও দূরের শব্দ নয়। এটি রান্নাঘরের কোণে, স্কুলের ইউনিফর্মে, হাসপাতালের বিছানায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর খাতায় সবখানেই উপস্থিত।
আরও পড়ুন: Mumbai: মুম্বইয়ে ফের রিসর্ট রাজনীতি: বিএমসি জিততে প্রতিনিধিদের পাঁচতারা হোটেলে পাঠাল শিন্ডে শিবসেনা
শিল্পের ভাষায় জনজীবনের কথা
পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে সিনেমার ভাষাকে সহজ রেখেছেন। কোথাও অতিনাটকীয়তা নেই, নেই অতিরিক্ত অলংকার। সময় কম, কিন্তু বক্তব্য স্পষ্ট। অভিনয়ে সংযম, সংলাপে বাস্তবতা এবং চিত্রনাট্যে সমাজের নীরব প্রশ্ন। এই ছবি প্রমাণ করে, শিল্প যখন মানুষের কথা ভাবে, তখন তা সময়ের দলিল হয়ে ওঠে।



