Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে আবারও (Supreme Court) এসআইআর নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য। ‘অযথা জুডিশিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন। পুরো প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়ার জন্য ছোটখাটো অজুহাত দেখাবেন না। বিচারপতিদের স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিন’- রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির। রাজ্যের অভিযোগ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে।
সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য (Supreme Court)
২৪ ঘন্টা পরই রাজ্যে এসআইআর-এ চূড়ান্ত তালিকা (Supreme Court) প্রকাশিত হবে। তার আগে আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো রাজ্য। জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল।
বিচারপতির কাছে রাজ্যের আইনজীবীর অভিযোগ (Supreme Court)
শুক্রবার প্রধান বিচারপতির কাছে রাজ্যের আইনজীবী অভিযোগ (Supreme Court) করেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে সেখানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে না। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কমিশন একাধিক অবৈধ নির্দেশিকা জারি করছে বলেও অভিযোগ করে রাজ্য। রাজ্যের আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, আড়ালে জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কমিশন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এড়িয়ে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, আর কোন নথি গ্রহণ করা হবে না, সেই নির্দেশ জুডিশিয়াল অফিসারদের দিচ্ছে কমিশন। তাঁর অভিযোগ, বিচারকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অথচ আগেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিই পুরো প্রক্রিয়ার রূপরেখা বা পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
যদিও রাজ্যের এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের এই অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে রীতিমতো ভর্ৎসনা করে রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়ার জন্য ছোটখাটো অজুহাত দেখাবেন না। অযথা যদি শিয়াল অফিসারদের সন্দেহ করা বন্ধ করুন। এবার এর একটা নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। বিচারকদের কাজ করতে দিন। তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।’ এরপরই অপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী রাজ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জুডিশিয়াল অফিসারদের কমিশন ট্রেনিং দেবে না তো কে ট্রেনিং দেবে? আমরা যে নির্দেশিকা দিয়েছি তাতে অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা আছে কোন কোন নথি গৃহীত হবে।’
এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীও। রাজ্যের আইনজীবী অভিযোগ করেন ডমিসাইল সার্টিফিকেট কমিশন গ্রহণ করছে না। এক্ষেত্রে কমিশন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, এসআইআর-এর কাজে ডমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তার কথা কোথাও বলা নেই। সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা অন্য জায়গায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ডমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য আর কোন কোন ক্ষেত্রে বৈধ নয় তাও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু এদিনের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, কমিশন ডমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করছে না।
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে রাজ্যের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছিল, কোন কোন নদী গ্রহণযোগ্য বা কোন কোন নতি গৃহীত হবে না। যদি আমাদের নির্দেশে এই নথি গ্রহণের কথা বলা থাকে তাহলে তা খতিয়ে দেখতেই হবে। আমাদের বিচারকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্য এবং কমিশন উভয় পক্ষেরই। এস আই আর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য আমরা রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে একেবারে ফাঁকা করে দিয়েছে।’ শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।


