Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুরাটের ভারাচহা এলাকার ভারত নগর গোশালা অঞ্চলে বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই আগুন লাগে একটি জরি কারখানায় (Surat)। প্রথমে ছোট আগুন বলে মনে হলেও, মুহূর্তের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। কারখানার ভিতরে মজুত থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলি একের পর এক বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। এই বিস্ফোরণ এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একটি সাধারণ সকাল থেকে দুঃস্বপ্ন (Surat)
বৃহস্পতিবার সকাল অন্য দিনের মতোই কর্মব্যস্ততা শুরু হয়েছিল জরি কারখানায়। শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত, কেউ বা বিশ্রামে। কিন্তু হঠাৎই আগুনের সূত্রপাত। প্রথমে হয়তো তা ছোট ছিল, কিন্তু দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে কারখানার বিভিন্ন অংশে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
বিস্ফোরণের তাণ্ডব: বিপর্যয়ের মূল মোড় (Surat)
আগুন লাগার পরই কারখানার ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। এই বিস্ফোরণ শুধু আগুনের তীব্রতা বাড়ায়নি, বরং আশপাশের গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন আতঙ্কে, কেউ কেউ ছুটে যান ঘটনাস্থলের দিকে। এই বিস্ফোরণই প্রমাণ করে কারখানার ভিতরে বিপজ্জনক উপকরণ মজুত রাখা হয়েছিল, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।

শ্রমিকদের অসহায়তা (Surat)
ঘটনার সবচেয়ে করুণ দিক হল শ্রমিকদের বসবাসের ব্যবস্থা ছিল কারখানার ছাদেই। ফলে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই আটকে পড়েন। ধোঁয়ায় ভরে যায় চারপাশ, নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। আগুনের তাপ, বিস্ফোরণের শব্দ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়। অনেক শ্রমিক বেরিয়ে আসার সুযোগই পাননি। তাঁদের আর্তনাদ সেই মুহূর্তে যেন মানবিক বিপর্যয়ের এক নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে থাকে।
সময়ের সঙ্গে লড়াই (Surat)
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। একাধিক ইঞ্জিন নিয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
কিন্তু পরিস্থিতি সহজ ছিল না ছাদের টিনের শেড কেটে শ্রমিকদের উদ্ধার করতে হয়। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগুন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছিল। দমকল কর্মীদের তৎপরতায় অন্তত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও একটি আশার আলো।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: বড় দলগুলোর মাঝে হুমায়ূনের ‘আম জনতা’, গেমচেঞ্জার হতে পারবে
হতাহতের মর্মান্তিক চিত্র
এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। আগুনে ঝলসে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের অনেকের অবস্থাই সংকটজনক। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও, আহতদের অবস্থা দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।



