Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে নাগরিক (Taliban Justice System) অধিকার আরও এক ধাপ নীচে নামল। নারী স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের পর এবার কার্যত দাসত্ব প্রথা ফিরিয়ে আনল তালিবান প্রশাসন। তালিবানের সুপ্রিম নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সই করা নতুন ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোড ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ।
নতুন আইন (Taliban Justice System)
২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন (Taliban Justice System) আইনে বিচার ব্যবস্থায় সামাজিক শ্রেণিবিভাজনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আইনের ৯ নম্বর ধারায় আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে- উলেমা বা ধর্মগুরু, আশরাফ বা উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। এই শ্রেণিভিত্তিক কাঠামোর উপর নির্ভর করেই অপরাধের শাস্তি নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

বিতর্কিত দিক (Taliban Justice System)
সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হল, অপরাধের (Taliban Justice System) গুরুত্ব নয়, বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানই শাস্তির মাপকাঠি হবে। ধর্মগুরুদের অপরাধে শুধুমাত্র ‘পরামর্শ’ দিয়েই ছেড়ে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রেও কার্যত একই রকম নমনীয়তা দেখানো হবে। তবে মধ্যবিত্তরা একই অপরাধ করলে জেল হতে পারে এবং নিম্নবিত্তদের জন্য থাকছে জেল ও শারীরিক নিগ্রহের মতো কঠোর শাস্তি।
মৌলিক নীতিকেই ধ্বংস
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই আইন বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতিকেই ধ্বংস করছে। এতে স্পষ্টভাবে শ্রেণি ও সামাজিক বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, নতুন কোডে ‘মুক্ত’ ও ‘দাস’ শব্দের বারবার ব্যবহার, যা তালিবান শাসনে দাসত্ব প্রথা ফেরার আশঙ্কাকে জোরালো করেছে।

আরও পড়ুন: Ajit Pawar: দুর্ঘটনায় মৃত্যু অজিতের, কত কোটি টাকার মালিক ছিলেন?
এছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার, আইনজীবী পাওয়ার সুযোগ এবং নীরব থাকার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণে জোর দেওয়া হচ্ছে স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যের উপর। নাচ বা তথাকথিত দুর্নীতির ঘটনায় প্রকাশ্যে চাবুক মারার বিধানও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে তালিবান শাসনে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিশ্ব।


