Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: তারাতলা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে যাতায়াতকারী (Taratala Flyover) নিত্যযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে লোড টেস্টিংয়ের কাজ শুরু হতে চলেছে। সেই কারণেই আজ শনিবার থেকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে তারাতলা উড়ালপুল। পূর্ত দফতর (পিডব্লিউডি) এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
যান চলাচল বন্ধ (Taratala Flyover)
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে সেতুতে (Taratala Flyover) যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। লোড টেস্টিং ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত কাজ চলবে টানা চার দিন, অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যে কোনও ধরনের যানবাহনকে তারাতলা ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথ ব্যবহার করার পাশাপাশি তারাতলা মোড় এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচলে প্রভাব (Taratala Flyover)
ফ্লাইওভার বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান (Taratala Flyover) চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। সেই কথা মাথায় রেখে আগাম ট্রাফিক পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে কলকাতা পুলিশ। বেহালা দিক থেকে আলিপুরের দিকে যাওয়া যানবাহনগুলিকে করুণাময়ী সেতু ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আলিপুর থেকে বেহালামুখী গাড়িগুলির জন্য বিকল্প হিসেবে দুর্গাপুর সেতু, হাইড রোড এবং নিউ আলিপুর হয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রুটগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানা গিয়েছে, যাতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবার রোডে ক্রমবর্ধমান যানচাপ কমানোর লক্ষ্যেই তারাতলা উড়ালপুল নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর ২০০৬ সালে সেতুটি চালু হয়। প্রায় ৫৪০ মিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভার চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই সমস্যা দেখা দেয়। ২০১০ সালে সেতুর একটি অংশে ফাটল ধরা পড়ে, যার ফলে বেহালামুখী লেন বন্ধ করে দিতে হয়। এরপর ২০২২ সালের এপ্রিল মাসেও ফের কাঠামোগত ত্রুটি ধরা পড়ায় সাময়িকভাবে সেতু বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

বারবার সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেতুর বর্তমান অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লোড টেস্টিংয়ের মাধ্যমে ফ্লাইওভারের বহনক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে ব্যবহারের উপযোগিতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের দাবি, এই পরীক্ষা শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামতি বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


