Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald J. Trump) প্রশাসন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন জানিয়েছে, যাতে ভারতের মতো দেশগুলির উপর আরোপিত শুল্ক বহাল থাকে(Tariffs on India)। আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, এই শুল্ক প্রত্যাহার করলে আমেরিকা বাণিজ্যিক প্রতিশোধের মুখে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।
কী বলছে প্রশাসন? (Tariffs on India)
মার্কিন সলিসিটার জেনারেল জন সাওয়ার সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা (Tariffs on India) নথিতে লিখেছেন—
- শুল্ক হল আমেরিকার জন্য এক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
- এগুলি না থাকলে অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
- শুল্কই ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ।
প্রশাসনের বক্তব্য, ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রেখেছে(Tariffs on India)। সেই কারণেই ভারতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর আগে বাণিজ্য ঘাটতির যুক্তি দেখিয়ে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল। ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ।
আইনি লড়াইয়ের পটভূমি (Tariffs on India)
এর আগে ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অফ আপিলস ৭-৪ ভোটে রায় দিয়েছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অজুহাতে শুল্ক আরোপ করে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে(Tariffs on India)। আদালতের মতে, ১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act (IEEPA) প্রেসিডেন্টকে এত ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয় না।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই আইন অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত।

আরও পড়ুন : GST Council Meeting On FMCG: দাম কমলো নিত্য পণ্যের! কোন পণ্যে কত জিএসটি?
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি (Tariffs on India)
দাখিল করা নথিতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি:
- শুল্ক না থাকলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা-শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে(Tariffs on India)।
- বছরে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে।
- বিদেশি দেশগুলির সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক আলোচনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
তাদের দাবি, শুল্ক আরোপের ফলে ইতিমধ্যেই ছয়টি বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে আমেরিকার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
আরও পড়ুন : V Day Parade In China : পুতিন-কিমের সঙ্গে মঞ্চে জিনপিং, ক্ষোভ উগরে দিলেন ট্রাম্প!
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক (Tariffs on India)
ভারতের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল(Tariffs on India)। কিন্তু কয়েকটি কারণে সেই আলোচনা থমকে গেছে—
- ভারত রাশিয়ার সঙ্গে তেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
- কৃষি ও দুগ্ধশিল্প খাতে আমেরিকাকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে ভারত রাজি হয়নি।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে শুল্ক ব্যবহার করছে।
‘আমেরিকা মৃত থেকে জীবিত’ (Tariffs on India)
আদালতে জমা নথিতে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, এক বছর আগেও আমেরিকার আর্থিক অবস্থা ছিল মৃতপ্রায়। এখন শুল্কের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রিলিয়ন ডলার আদায় করা সম্ভব হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র আবার আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে ফিরেছে। তাদের কথায়—
“শুল্ক থাকলে আমেরিকা ধনী দেশ, শুল্ক ছাড়া গরিব দেশ।”

আরও পড়ুন : Indian Navy Special Force : ভারতীয় নৌবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স! জলসীমা রক্ষার দায়িত্বে ‘মেরিন কমান্ডো’
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি (Tariffs on India)
ভারতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ মার্কিন শুল্কের কবলে পড়েছে। অনেক দেশ ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে, আবার কিছু দেশের সঙ্গে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভারতের জন্য ৫০ শতাংশ শুল্ক বিশাল ধাক্কা। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য ও তেল আমদানিতে এর প্রভাব পড়বে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, তার উপর নির্ভর করবে আগামী দিনে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক কোন পথে এগোবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, শুল্কই আমেরিকার অর্থনৈতিক রক্ষাকবচ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কার্যকর হাতিয়ার। তবে আদালত যদি আপিল খারিজ করে দেয়, তবে শুল্কনীতি ভেঙে পড়তে পারে। ভারতের মতো উদীয়মান বাজার অর্থনীতির দেশের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, আবার সুযোগও বটে।


