Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাওড়ার পিলখানা এলাকা মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত (Howrah)। ২৭ বছরের যুবক শফিক খানের নৃশংস খুনকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা অঞ্চল। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দফায় দফায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।

দিনের আলোয় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি (Howrah)
মৃত শফিক খান হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। রমজান মাস চলায় তিনি সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় হারুন ও রোহিত নামে দুই দুষ্কৃতী তাঁর সঙ্গে রাস্তায় কথা বলতে শুরু করে। এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্ত। দেখা যায়, কথোপকথনের মাঝেই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে শফিকের মাথা ও বুকে মোট চার রাউন্ড গুলি চালায় অভিযুক্তরা। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চালানো গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সিসিটিভিতে ধরা পড়া ‘হাড়হিম’ দৃশ্য (Howrah)
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শফিকের সঙ্গে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আচমকা গুলির শব্দে চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সবাই। দিনের আলোয় এমন স্পষ্ট ও পরিকল্পিত খুনে আতঙ্কিত গোটা এলাকা। ফুটেজ এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করছে পুলিশ।
আগুন, ভাঙচুর, বিক্ষোভ (Howrah)
খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। একের পর এক আসবাবে আগুন লাগানো হয়, বেশ কয়েকটি বাইকও পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। মৃদু লাঠিচার্জের খবরও মিলেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দুষ্কৃতীদের দাপট ছিল, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
তদন্তে নেমেছে পুলিশ, প্রশ্নের মুখে উদ্দেশ্য
ঘটনার পরই গোলাবাড়ি থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। শুরু হয়েছে তদন্ত। তবে এখনও অধরা দুই অভিযুক্ত। কেন এই খুন? ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রোমোটারি সংক্রান্ত বিবাদ নাকি অন্য কোনও অপরাধচক্র সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত, জমি বা ব্যবসা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই হামলা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।



