Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুধু সিবিআই নয়, কোনও কেন্দ্রীয় (Supreme Court Order) সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে পারবে রাজ্যের পুলিশও। চার্জশিট দাখিল করারও ক্ষমতা রয়েছে রাজ্য পুলিশের। রাজ্যের সীমার মধ্যে ঘটা যে কোনও দুর্নীতির তদন্ত করার এক্তিয়ার রয়েছে রাজ্য পুলিশের। সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ। আদালতের পর্যবেক্ষণ- কোনও কেন্দ্রীয় কর্মচারী দুর্নীতির তদন্ত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে ‘ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন না।
সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ (Supreme Court Order)
সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ (Supreme Court Order)। শুধু সিবিআই-ইডি’র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে পারবে রাজ্য পুলিশও। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়াল এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলির এক্তিয়ারের সীমানা স্পষ্ট করে দিলেন। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, রাজ্য পুলিশ দুর্নীতি দমন আইন ১৯৯৮-এর অধীনে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তদন্ত করতে পারবে এবং চার্জশিটও দাখিল করতে পারবে। রাজস্থানের এক কেন্দ্রীয় কর্মচারীর করা মামলায় এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ (Supreme Court Order)
রাজস্থানের এক কেন্দ্রীয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে (Supreme Court Order) দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে রাজস্থান পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্ত ওই কেন্দ্রীয় কর্মচারীর দাবি, তিনি যেহেতু কেন্দ্রের সরকারের কর্মচারী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত করার এক্তিয়ার রাজ্য পুলিশের নেই। তদন্ত একমাত্র করতে পারে সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়া হোক বলে রাজস্থান হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। কিন্তু রাজস্থান হাইকোর্ট তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা (Supreme Court Order)
পুলিশি তদন্তের বিরোধিতা করে ওই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী (Supreme Court Order) সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল রাজ্যের সীমার মধ্যে ঘটা যেকোনো দুর্নীতির তদন্ত কররা অধিকারও এক্তিয়ার রয়েছে সেই রাজ্যের পুলিশের। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী হলেও রাজ্য পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার সেক্ষেত্রে তদন্ত করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। শীর্ষ আদালত তার নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইন অনুযায়ী কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে যথাযথ সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন। তার মানে এই নয়, তদন্ত কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজ্যের সীমানার মধ্যে যদি কোনও দুর্নীতি হয়, তাহলে সেই দুর্নীতির তদন্ত করার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার রয়েছে সেই রাজ্যের পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার। কোনও কেন্দ্রীয় কর্মচারী দুর্নীতির তদন্ত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে ‘ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন না।
আরও পড়ুন: Weather Report: দক্ষিণে নেই শীত, উত্তর কাঁপছে ঠাণ্ডায়!
ইডি, সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাজ দেশের সর্বত্রই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গেও বারবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে অবিজেপি দলগুলি। সম্প্রতি আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাক দফতরে ইডির তল্লাশি নিয়েও একই অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অপব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি বিরোধীদের কন্ঠ রোধ করার এবং হয়রানি করার চেষ্টা করছে বলে বারবার অভিযোগ তুলেছেন তারা। এমনকি কেন্দ্রীয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের ক্ষেত্রেও বারবার বাধাপ্রাপ্ত হতে হয়েছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে এবার কোনও কেন্দ্রীয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে আর কোনও বাধা রইল না রাজ্য পুলিশের। ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কেন্দ্র-রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছে আইনি বিশেষজ্ঞ মহল।


