Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিরোধীদের তুমুল হট্টগোল ও কক্ষত্যাগের মধ্যেই সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়ে গেল বিতর্কিত ‘বিকসিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ‘ভিবি-জিরামজি’ বিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাসের পর গভীর রাতে রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে পাস হয় এই বিল। এর প্রতিবাদে দিল্লির হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই পুরনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে সারারাত ধর্নায় বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা (TMC Protest)। শুক্রবার সকালেও এই প্রতিবাদ কর্মসূচি জারি রয়েছে।
বিলের মূল বিরোধ ও অভিযোগ (TMC Protest)
ইউপিএ আমলের ঐতিহাসিক ‘মনরেগা’ (MGNREGA) বা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করেই এই নতুন বিল আনা হয়েছে। বিরোধীদের মূল আপত্তি প্রকল্পের নাম থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী’-র নাম বাদ দেওয়া নিয়ে (TMC Protest)। তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, “মোদী সরকার দ্বিতীয়বার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করল।”
কংগ্রেস ও তৃণমূলের দাবি, জাতির জনকের নাম সরিয়ে দেশবাসীকে অপমান করা হয়েছে। এছাড়া, আগে এই প্রকল্পের পুরো খরচ কেন্দ্র বহন করলেও, নতুন বিলে ৬০:৪০ অনুপাতে রাজ্যগুলিকে অর্থ দিতে হবে, যা রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপাবে বলে মনে করছেন বিরোধীরা।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিল পাসের পরই সংসদ চত্বরে মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি নিয়ে ধর্নায় বসেন দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ, মমতাবালা ঠাকুর ও সাকেত গোখলেরা। প্রবল শীতের মধ্যে চাদর-সোয়েটার জড়িয়ে চলে বিক্ষোভ (TMC Protest)। তাঁদের দাবি, বুলডোজার নীতি প্রয়োগ করে বিরোধীদের মতামত না নিয়েই এই ‘কালো আইন’ পাস করানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের দাবি, এই বিলে কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে এবং মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। তাঁর মতে, সরকার গান্ধীজীর আদর্শ মেনেই চলছে এবং এই নতুন বিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।
আরও পড়ুন:Delhi Pollution: দিল্লিতে বেসরকারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাতেই কমবে দূষণ!
মহাত্মা গান্ধী এবং বাঙালিদের অপমানের প্রতিবাদে আগামী ১২ ঘণ্টা এই ধর্না চলবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিরোধীদের দাবি, এই বিল আদতে গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।


