Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রূপান্তরকামীদের অধিকার সংক্রান্ত ২০১৯ সালের আইনে প্রস্তাবিত সংশোধন ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে(Trans Amendment Bill)। LGBTQI+ সম্প্রদায়ের সদস্য, অধিকারকর্মী সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলির মতে, ২০২৬ সালের সংশোধনী বিলটি “বৈষম্যমূলক” এবং এটি ২০১৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নালসা (NALSA) রায় বিরোধী।
স্বীকৃতি পেতে মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ প্রয়োজন (Trans Amendment Bill)
১৩ মার্চ লোকসভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার এই বিলটি পেশ করেন। সরকারের দাবি, আইনের প্রয়োগে যে অস্পষ্টতা রয়েছে তা দূর করা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করাই এর উদ্দেশ্য। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাব হল স্ব-পরিচয়ের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণের অধিকার বাতিল করা। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তিকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ প্রয়োজন হবে।
বিলটিতে ট্রান্সজেন্ডারের সংজ্ঞা সীমিত
এছাড়া বিলটিতে ট্রান্সজেন্ডারের সংজ্ঞা সীমিত করে হিজড়া, কিন্নর, আরাবানি প্রভৃতি সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় বা জন্মগত জৈবিক বৈচিত্র্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিন্ন যৌন অভিমুখীতা বা স্ব-অনুভূত লিঙ্গপরিচয় এই সংজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
‘আমাদের পরিচয় আমরাই নির্ধারণ করব’
এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে পরিচয় নির্ধারণ ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার লঙ্ঘন। কর্মী গ্রেস বাণু বলেন, “আমাদের শরীর প্রমাণ নয়। আমাদের পরিচয় আমরা নিজেরাই নির্ধারণ করব।” অনেকেই এটিকে “প্রাতিষ্ঠানিক অপমান” বলে উল্লেখ করেছেন।
বিরোধী নেতারাও সরব (Trans Amendment Bill)
বিরোধী নেতারাও সরব হয়েছেন। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এই বিলকে “গভীরভাবে পশ্চাদমুখী” বলে মন্তব্য করেছেন। আরজেডি নেতা মনোজ ঝা একে সরাসরি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: Transfer Case: আমলা-পুলিশ বদলি মামলা: কমিশনের ক্ষমতা ও এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন কল্যাণ ও এজি-র
আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা (Trans Amendment Bill)
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের নালসা রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, লিঙ্গপরিচয় নির্ধারণ ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার এবং এর জন্য কোনও চিকিৎসা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা যাবে না। এই প্রেক্ষিতে নতুন বিলটি নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।



