Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং (Trump-Xi Jinping Meeting)। দুই বিশ্বশক্তির এই বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি হতে পারে দীর্ঘদিনের মার্কিন চিন বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান সূচক।

দুই নেতার শুভেচ্ছা ও প্রাথমিক বার্তা (Trump-Xi Jinping Meeting)
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্প জানান, “আমি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি খুব সফল বৈঠক আশা করছি। আমাদের সম্পর্ক সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “শি এক মহান দেশের মহান নেতা। উভয় পক্ষ ইতিমধ্যেই অনেক বিষয়ে একমত হয়েছে, এখন আমরা আরও কিছু বিষয়ে একমত হব।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে।
শি জিনপিংয়ের প্রতিক্রিয়া (Trump-Xi Jinping Meeting)
বৈঠকের আগে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, “বেজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক সবসময়ই সুসম্পর্কপূর্ণ থাকা উচিত। ইতিহাস আমাদের এটাই শেখায়, আর বাস্তবতাও এই বন্ধুত্বের দাবি করে।” তিনি আরও বলেন, “আমি চাই দুই দেশের উন্নয়নের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি হোক এবং আমি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।” শি-র এই বক্তব্যে সহযোগিতার বার্তা স্পষ্ট, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
আলোচনার মূল এজেন্ডা (Trump-Xi Jinping Meeting)
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকছে, শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্য বাধা কমানো। প্রযুক্তি বিনিময় ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ। বৌদ্ধিক সম্পত্তি সুরক্ষা। চিন-মার্কিন। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি চিনা পণ্যের ওপর কিছু শুল্ক কমাতে পারেন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আগের বৈঠকের প্রেক্ষাপট (Trump-Xi Jinping Meeting)
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের শেষ বৈঠক হয়েছিল ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকাতে জি-২০ সম্মেলনে।
তারপর প্রায় ছয় বছর পর আবারও মুখোমুখি হলেন দুই নেতা। বিশেষ তাৎপর্য এই যে, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসার পর এটাই ট্রাম্পের প্রথম শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
আরও পড়ুন: World Cup 2025: অস্ট্রেলিয়ার বিজয় রথ থামানোর লক্ষ্যে ভারত
সম্ভাব্য প্রভাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক যদি সফল হয়, তাহলে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে, ডলার–ইউয়ান সম্পর্ক উন্নত হতে পারে, এবং এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেতে পারে। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বলছেন, ট্রাম্প ও শি-এর এই মিটিং একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন দিশা খুলে দিতে পারে।



