Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিরোধীদের চাপে ফেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কি উল্টো চাপে পড়ে গেল বিজেপিই? উত্তরপ্রদেশে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (UP SIR) ঘিরে যে পরিসংখ্যান সামনে আসছে, তা গেরুয়া শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যোগীরাজ্যে SIR-এর প্রাথমিক পর্যায়েই প্রায় ১৮ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে এমন খবর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই যে নির্বাচন কমিশনকে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন বারবার পিছোতে হয়েছে।

SIR কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ (UP SIR)
স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা SIR মূলত ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার একটি প্রক্রিয়া। মৃত, স্থানান্তরিত, ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট ভোটারদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য এই প্রক্রিয়া জরুরি হলেও, বাস্তবে এর রাজনৈতিক প্রভাব যে কতটা গভীর হতে পারে, উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে।
কেন এত দেরি খসড়া তালিকা প্রকাশে (UP SIR)
একযোগে দেশের ১২টি রাজ্যে SIR শুরু হলেও প্রায় সব রাজ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। ব্যতিক্রম উত্তরপ্রদেশ। এখানে একাধিকবার ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে ৩১ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে নতুন ডেডলাইন করা হয়েছে ৬ জানুয়ারি। এই বিলম্ব নিজেই ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর।
কত ভোটার বাদ পড়ছে (UP SIR)
এখনও পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। সাড়ে ১৫ কোটি ভোটারের রাজ্যে প্রায় ৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে বলে হিসাব। এর মধ্যে,
- প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত,
- ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত,
- ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট,
- ৮৩ লক্ষ ভোটার নিখোঁজ,
- এবং আরও প্রায় ৯ লক্ষের কিছু বেশি ভোটারের তথ্য অসম্পূর্ণ।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল ‘আনকালেক্টেড ফর্ম’-এর সংখ্যা যা প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ। এই ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির দুর্গেই কেন বেশি নাম বাদ (UP SIR)
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, যেসব জেলা বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত, সেখানেই ভোটার বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। লখনউয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এর পরেই রয়েছে গাজিয়াবাদ, কানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মেরঠ, প্রয়াগরাজ ও আগ্রা সবই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। এর ঠিক উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে সেইসব জেলায়, যেখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। মোরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, মুজফফরপুর, বিজনৌরের মতো জেলাগুলিতে ভোটার বাদ পড়ার হার তুলনায় অনেক কম ১৫ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে। এই বৈপরীত্যই বিজেপির অস্বস্তির মূল কারণ।
যোগী আদিত্যনাথের স্বীকারোক্তি (UP SIR)
খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রকাশ্যেই মেনে নিয়েছেন, যে ভোটারদের নাম বাদ পড়তে চলেছে, তাঁদের বড় অংশই বিজেপির সমর্থক। তাই আগেভাগেই তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, যাতে যতটা সম্ভব ভোটারের নাম তালিকায় রাখা যায়। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রচেষ্টার ফল খুব একটা চোখে পড়ছে না।

আরও পড়ুন: Digha Jagannath Temple: পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু দিঘার জগন্নাথধাম
বিরোধীদের কটাক্ষ
এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে ছাড়েননি সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। তাঁর কটাক্ষ, “উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৬০ হাজার করে ভোট কমছে বিজেপির। যে ভোট বাদ পড়ছে, তার বেশিরভাগই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের পকেট ভোট।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।



