Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন বছরের প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়ল দিঘা (Digha Jagannath Temple)। সমুদ্রস্নান আর পর্যটনের চেনা পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এবার দিঘা উঠে এল এক নতুন আধ্যাত্মিক মানচিত্রে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা দিঘার জগন্নাথধাম ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই বিপুল জনসমাগমের সাক্ষী থাকল। একদিনেই এক লক্ষের বেশি পুণ্যার্থী জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শন করলেন যা এই মন্দিরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

আলোর সাজে দিঘা (Digha Jagannath Temple)
২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে বুধবার রাত থেকেই ওল্ড দিঘা ও নিউ দিঘার রাজপথ মায়াবী আলোয় সেজে ওঠে। রঙিন আলো, সুরের মূর্ছনা আর পর্যটকদের উচ্ছ্বাসে রাতভর জমে ওঠে উৎসবের আবহ। ঠিক রাত বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আতসবাজির ঝলকানিতে আকাশ আলো করে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় দিঘা। সমুদ্রের গর্জনের সঙ্গে মিলেমিশে যায় মানুষের উল্লাসধ্বনি।
পুণ্যের পথে হাজারো মানুষ (Digha Jagannath Temple)
উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা থেকেই জগন্নাথ মন্দিরের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখার জন্য ভোরে সমুদ্রতীরে ভিড় জমান। সূর্যপ্রণাম সেরে তারপরই তাঁরা পা বাড়ান জগন্নাথধামের দিকে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। মন্দির চত্বরে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

একদিনেই এক লক্ষ দর্শন (Digha Jagannath Temple)
মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল চারটে পর্যন্ত এক লক্ষ দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন করেছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ায় খুশি মন্দির পরিচালন কমিটির সদস্যরা। উদ্বোধনের মাত্র আট মাসের মধ্যেই দিঘার জগন্নাথধাম জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি পেরিয়েছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মন্দিরের আয় এবং পরিকাঠামোগত বিস্তার।
বিশ্বজুড়ে দিঘার জগন্নাথধামের খ্যাতি (Digha Jagannath Temple)
কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস জানান, “বছরের প্রথম দিন বিকেল পর্যন্ত এক লক্ষ দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের দর্শন সেরেছেন। ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশ থেকে প্রায় ২৫ হাজার দর্শনার্থী এই মন্দিরে এসে পুজো দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, গত এক মাস ধরে দর্শনার্থীদের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিফিন, মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজের অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই অন্নপ্রসাদ গ্রহণ করতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষকে।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘ঘরছাড়া’ দিলীপই কি ফের ছাব্বিশে বিজেপির তুরুপের তাস?
পর্যটনের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন
এতদিন দিঘা মানেই ছিল সমুদ্রস্নান, হোটেল আর বিনোদন। কিন্তু জগন্নাথধামের হাত ধরে সেই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক মাত্রা। পর্যটন ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন দিঘাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ আর ভক্তদের প্রার্থনার ধ্বনি মিলেমিশে ২০২৬ সালের প্রথম দিনটি দিঘার ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে রইল।



