Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের খনি ও খনিজ খাত, বিশেষ করে তামা রফতানি, শিগগিরই উল্লেখযোগ্য মার্কিন বিনিয়োগের মুখ দেখতে পারে(US Pakistan Trade)। সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক শুল্কচুক্তির পরই এই আশাবাদ ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানি দৈনিক ডন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া একটি সরকারি রিপোর্টে পাক বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান জানিয়েছেন—আমেরিকার সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার সময় ওয়াশিংটন তামা-সহ বিভিন্ন খনিজে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের ইতিবাচক প্রভাব (US Pakistan Trade)
কামাল খান উল্লেখ করেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে তামা, লোহা, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির উপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক চুক্তিতে পরিশোধিত তামাকে শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তানের মতে, এটি কেবল বাণিজ্যিক ছাড় নয়, বরং খনিজ খাতে ভবিষ্যৎ কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত।
তামার গুরুত্ব ও বিশ্ববাজারে চাহিদা (US Pakistan Trade)
পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম তামা-সমৃদ্ধ দেশ। খনিজ তামার ভান্ডারের পরিমাণের দিক থেকে দেশটি বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি উন্নয়ন, বিশেষ করে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে তামা অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং আগামী দশকেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সম্ভাবনা বনাম বাস্তবতা (US Pakistan Trade)
তবে বিশাল তামার মজুদ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি(US Pakistan Trade) । আধুনিক খনি অবকাঠামো, প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগের ঘাটতি এ ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। বর্তমানে দেশটি মূলত চিনে অপরিশোধিত তামার আকরিক রফতানি করে, কিন্তু আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের লাভজনক বাজারে প্রবেশ করতে পারেনি।
কামাল খান মনে করেন, মার্কিন বিনিয়োগ এ ক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে। আমেরিকার পুঁজি, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পাকিস্তানকে কেবল উন্নত তামা প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করবে না, বরং বৈশ্বিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতা ক্ষমতাও বাড়াবে।

নতুন উদ্যোগ ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ (US Pakistan Trade)
পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রকরণের মাধ্যমে অনাবিষ্কৃত খনিজ ভান্ডার চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে(US Pakistan Trade) । এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ পাকিস্তান-কে। প্রকল্পের লক্ষ্য—তামা ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ যেমন সোনা, লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ মিনারেল খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা।
কাঁচা আকরিক থেকে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য (US Pakistan Trade)
এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের রপ্তানি মূলত কাঁচা আকরিকের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশটির নতুন নীতি অনুযায়ী, তারা ধীরে ধীরে পরিশোধিত তামা, তামার বার, রড এবং সংকর ধাতু উৎপাদন ও রপ্তানির দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের মাধ্যমে বেশি রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন : US Tariff On India : ভারতের উপর ৫০% শুল্কে রাশিয়ার ‘বড় ধাক্কা’, দাবি ট্রাম্পের !
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব (US Pakistan Trade)
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের (Donald J. Trump) সঙ্গে এই বিনিয়োগ সহযোগিতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে যেমন চাঙ্গা করবে, তেমনি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে(US Pakistan Trade) । একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে চীনের প্রভাব কমাতে চাইছে, অন্যদিকে পাকিস্তানও তার রপ্তানি বাজারকে বৈচিত্র্যময় করতে আগ্রহী। তামা খাত সেই কৌশলগত মিলনের সুযোগ এনে দিচ্ছে।
সরকারের আশাবাদ (US Pakistan Trade)
বাণিজ্যমন্ত্রী কামাল খান বলেন, ‘‘তামা ও অন্যান্য খনিজ খাতে কৌশলগত উন্নয়ন কেবল পাকিস্তানের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করবে না, বরং বৈশ্বিক খনিজ ঘাটতি মেটাতেও অবদান রাখবে।’’ তার মতে, মার্কিন বিনিয়োগ পেলে তামা প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের আধুনিকীকরণ দ্রুততর হবে, যা কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের উত্থান ঘটাবে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান বর্তমানে কাঁচা তামা রপ্তানির পর্যায় থেকে উচ্চমূল্য সংযোজিত শিল্পে উত্তরণের পথে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন বিনিয়োগ যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।


