Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিংসার আগুন নিভছে না আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোয়(DR Congo)।চার্চ চত্বরে চলল এলোপাথাড়ি গুলি। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৮ জনের। এলোপাথাড়ি গুলির পাশাপাশি অসংখ্য বাড়ি ও দোকানে আগুন জ্বালায় আততায়ীরা।রবিবার এই হামলা হয়েছে পূর্ব কঙ্গোতে। হামলার নেপথ্যে রয়েছে উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট’-এর মদতপুষ্ট গোষ্ঠী ‘এডিএফ’, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে এমনটাই।
চার্চে এলোপাথাড়ি গুলি (DR Congo)
রবিবার ভোরে কঙ্গোর কোমানদাতে একটি চার্চের ভেতরে এলোপাথাড়ি গুলি চলে। একাধিক বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়(DR Congo)। ৩৮ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উগ্রপন্থী সংগঠন ‘দ্য অ্যালায়েড ডেমক্রেটিক ফ্রন্ট (এডিএফ)’ এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ইসলামিক স্টেট’-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করে ‘এডিএফ’। উগান্ডা এবং কঙ্গোর সীমান্তবর্তী এলাকায় এই গোষ্ঠী সক্রিয়। সাধারণ মানুষের উপরে নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। কঙ্গো সরকারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে এডিএফ-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই ঘটনার পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের আবেদন করছেন এলাকাবাসী।

হামলার লক্ষ্য ছিলেন খ্রিস্টানরা (DR Congo)
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই অঞ্চলে মানবাধিকারের পক্ষে আন্দোলনকারী নেতা ক্রিস্টোফে মুনিয়ান্দেরু বলেন, ‘আততায়ীদের হামলার লক্ষ্য ছিলেন শুধুমাত্র খ্রিস্টানরা। যারা শনিবার রাতে ওই ক্যাথেলিক গির্জায় ছিলেন।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, ‘এই হামলার জেরে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে(DR Congo)। যার মধ্যে অন্তত ২০ জনকে ধারালো অস্ত্রের কোপে খুন করা হয়। বাকিদের জীবন্ত পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।’ ইতুরিতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জুলস এনগোঙ্গো বলেন, ‘রবিবার সকালে এই হামলার কথা জানতে পারি আমরা। আততায়ীরা মূলত ধারালো অস্ত্র হাতে সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়া বহু দোকান ও বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন-Matoshree: ৬ বছর পর প্রথমবার, উদ্ধবের জন্মদিনে মাতোশ্রী’তে রাজ ঠাকরে
কঙ্গোয় বারংবার হামলা (DR Congo)
ডিআর কঙ্গোতে এই ধরনের নৃশংস হামলা এই প্রথমবার নয়(DR Congo)। চলতি মাসের শুরুতে, এই হামলাকারী দলটি ইতুরিতে কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করে। সেই ঘটনায় মুখ খুলেছিল খোদ রাষ্ট্রসংঘ। ওই হামলাকে ‘রক্তাক্ত সংঘর্ষ’ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রসংঘের এক মুখপাত্র। ইসলামিক স্টেট মতাদর্শে বিশ্বাসী এডিএফ হল উগান্ডা এবং কঙ্গোর সীমান্তবর্তী অঞ্চলের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। যারা বারবার ওই অঞ্চলের অমুসলিমদের উপর নৃশংস আক্রমণ চালায়।

আরও পড়ুন-Central Asia: যুদ্ধ-জঙ্গিবাদে বিনিয়োগ! মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্য করতে গিয়ে কুপোকাত পাকিস্তান
এডিএফ (DR Congo)
১৯৯০ এর দশকে উগান্ডাতে এডিএফ সংগঠন গঠিত হয়(DR Congo)। ২০০২ সালে উগান্ডা সেনার তাড়া খেয়ে এরা উগান্ডা ও কঙ্গোর সীমান্তে গাড়ে। তারপর থেকে তারা দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা অভিযান শুরু করেছে। সেখান থেকেই চালাতে থাকে নরসংহার। ২০১৯ সালে নিজেদের ইসলামিক স্টেটের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে এই বিদ্রোহী দলটি। এদের উদ্দেশ্য পূর্ব আফ্রিকার এই দেশে এডিএফ-এর নেতৃত্ব ইসলামিক সরকার গঠন। হাজার হাজার সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেছে তারা। এর মধ্যে যুক্ত হল পূর্ব কঙ্গোর চার্চে হামলার ঘটনা।



