Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত (US Penal Duty On India) এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক খুব শিগগিরই প্রত্যাহার হতে পারে। তাঁর মতে, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই ২৫ শতাংশ হারে আরোপিত এই অতিরিক্ত শুল্ক বাতিল হতে পারে।
নাগেশ্বরন বলেন, “আমার বিশ্বাস এই শাস্তিমূলক শুল্ক নভেম্বরের পর আর থাকবে না। এটি কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তার ভিত্তিতে নয়, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি আশাবাদী যে আগামী দুই মাসের মধ্যে সমাধান হবে।”
শুল্ক বিরোধের প্রেক্ষাপট (US Penal Duty On India)
গত আগস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসন ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে (US Penal Duty On India)। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ভারতের টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও খাদ্যপণ্যের মতো শ্রমনির্ভর খাতে শুল্কের বোঝা দাঁড়ায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
এই সিদ্ধান্তে রপ্তানিকারকদের মারাত্মক চাপ তৈরি হয়, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে, যেখানে মুনাফা মার্জিন আগেই সীমিত ছিল।
পুনরায় আলোচনার ইঙ্গিত (US Penal Duty On India)
সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব ও প্রধান বাণিজ্য আলোচক রাজেশ আগরওয়াল নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছেন (US Penal Duty On India)। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পর এটিই ছিল প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
এই আলোচনার পরেই ভারতের পক্ষ থেকে আশাবাদী বার্তা আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আংশিক হলেও শুল্ক প্রত্যাহার রপ্তানিকারকদের জন্য স্বস্তির খবর আনবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

আরও পড়ুন : Pak Saudi Defence Deal : সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?
সম্ভাব্য সমাধানের পথ (US Penal Duty On India)
নাগেশ্বরনের ধারণা, বর্তমানে ভারতের আরোপিত ২৫ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক কমিয়ে ১০–১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে (US Penal Duty On India)। তিনি আরও বলেন, “পুরো শুল্ক বিরোধ আগামী ৮–১০ সপ্তাহের মধ্যে মিটে যেতে পারে, যদিও এটি আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনও আনুষ্ঠানিক আশ্বাস নয়।”
আরও পড়ুন : Neeraj vs Arshad : টোকিও বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে নীরজ বনাম আর্শাদ, কে জিতবে জ্যাভলিনের মহারণে?
রাজনৈতিক হিসাবনিকাশও বড় ফ্যাক্টর
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং নির্বাচনমুখী কৌশলও এই সমাধানের সময়সীমা ও পরিধি নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে (US Penal Duty On India)। ভারত সরকার একদিকে আশাবাদী, অন্যদিকে বিকল্প পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রপ্তানিকারক ও শিল্প মহল এখন অপেক্ষায়—নভেম্বরের শেষ নাগাদ যদি যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক প্রত্যাহার করে, তাহলে তা হবে ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক সম্পর্কে স্বস্তির মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। তবে ততদিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তার ছায়াই ভর করে থাকবে ভারতীয় বাজার ও রপ্তানি খাতে।


