Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসময় গোটা উপমহাদেশকে আবেগে নাড়িয়ে দিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই লড়াই হয়ে উঠেছে একতরফা(Neeraj vs Arshad)। ঠিক তখনই জ্যাভলিনে নতুন ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ এশিয়া। ভারতের নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra) আর পাকিস্তানের আর্শাদ নদীম হয়ে উঠলেন দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রীড়া-গর্ব, আর তাঁদের দ্বৈরথ আজ সবচেয়ে প্রতীক্ষিত প্রতিযোগিতার প্রতীক।
প্যারিস থেকে টোকিও প্রতিশোধ বনাম প্রমাণের লড়াই (Neeraj vs Arshad)
২০২৩ সালের বুদাপেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নীরজ–আর্শাদ শেষ করেছিলেন এক–দুই(Neeraj vs Arshad)। তারপরে প্যারিস অলিম্পিকে আর্শাদের ৯২.৯৭ মিটার ছোঁড়া তাঁকে এনে দিল স্বর্ণপদক ও অলিম্পিক রেকর্ড। নীরজ পেলেন রুপো, তাঁর সর্বোচ্চ ৮৯.৪৫ মিটার থ্রো তাঁকে কাঙ্ক্ষিত ৯০ মিটার ক্লাবের বাইরে রেখেছিল।
তবে ইতিহাস বদলাতে দেরি হয়নি। কিংবদন্তি কোচ জান জেলেজনির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ বছর দোহা ডায়মন্ড লিগে নীরজ প্রথমবার ছুঁলেন ৯০ মিটার – ৯০.২৩ মিটার থ্রো। বৃহস্পতিবার টোকিওর ফাইনালে তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট: “প্যারিসের প্রতিশোধ আর বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখা।”
আর্শাদ অবশ্য প্রমাণ করতে চাইবেন, তাঁর অলিম্পিক জয় কোনো একদিনের বিস্ময় নয়, বরং ধারাবাহিক সাফল্যের ফল।
নীরজের স্বস্তি, আর্শাদের দুশ্চিন্তা(Neeraj vs Arshad)
বুধবারের কোয়ালিফায়ারে দুই তারকার পথ ছিল একেবারে বিপরীত(Neeraj vs Arshad)।
- নীরজ প্রথম থ্রোতেই ৮৪.৫০ মিটার ছুঁয়ে সরাসরি ফাইনালে জায়গা পাকা করে নেন। শান্তভাবে ব্যাগ গুছিয়ে হোটেলে ফেরেন বিশ্রামে।
- আর্শাদের প্রথম দুটি প্রচেষ্টা ছিল ব্যর্থ (৭৬.১৯ ও ৭৪.১৭ মিটার)। শেষ থ্রোতে ৮৫.২৮ মিটার গিয়ে তাঁকে রক্ষা করে। সফল হতেই তিনি হাত জোড় করে আকাশের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুন : EC On Rahul Gandhi : রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলল নির্বাচন কমিশন !
প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ভারত–পাক নয় (Neeraj vs Arshad)
যদিও নীরজ বনাম আর্শাদই মূল আকর্ষণ, তবে ফাইনালের লড়াই বহুমাত্রিক(Neeraj vs Arshad)।
- জুলিয়ান ওয়েবার (জার্মানি): মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে, ৯১.৫১ মিটার ছুঁড়েছেন।
- অ্যান্ডারসন পিটার্স (গ্রেনাডা): ৯৩.০৭ মিটার ব্যক্তিগত সেরা, কোয়ালিফায়ারে ৮৯.৫৩ মিটার।
- জুলিয়াস ইয়েগো (কেনিয়া): ৩৬ বছর বয়সেও প্রথম চেষ্টাতেই ৮৫.৯৬ মিটার ছুঁড়ে চমক দিয়েছেন।
- কেশর্ন ওয়ালকট (ত্রিনিদাদ ও টোবাগো): নিয়মিত ৮০ মিটারের উপরে, সেরা ৮৬.৩০ মিটার।
- জাকুব ভাদলেজ (চেক প্রজাতন্ত্র): টোকিও অলিম্পিকে রুপোজয়ী, এবারও যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
এছাড়া ভারতীয় তরুণ সচিন যাদব (৮৫.১৬ মিটার) আর শ্রীলঙ্কার রুমেশ থারাঙ্গাও (৮৬.৫০ মিটার) আলোচনায় রয়েছেন।
আবহাওয়া আর মানসিক চাপও বড় ফ্যাক্টর(Neeraj vs Arshad)
টোকিওর আর্দ্রতা আর গরম এই প্রতিযোগিতার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২১ টোকিও অলিম্পিকে যেখানে ৮৭.৫৮ মিটার থ্রো দিয়েই স্বর্ণ মিলেছিল, সেখানে এবার পরিস্থিতি সামলানো দূরত্বের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন : Pak Saudi Defence Deal : সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জন্য কতটা চিন্তার?
মহারণে নজর গোটা বিশ্বের
একদিকে ভারতের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী নীরজ, যিনি ধারাবাহিকতা আর নিখুঁত কৌশলের প্রতীক(Neeraj vs Arshad)। অন্যদিকে পাকিস্তানের আর্শাদ, যিনি এক লাফে ঢুকে পড়েছেন বিশ্বসেরাদের দলে এবং অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে ইতিহাস বদলেছেন।
টোকিওর মাটিতে এ বার তাঁরা মুখোমুখি। শুধু ভারত–পাকিস্তানের ভক্তরা নয়, গোটা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন – কে জিতবে এই জ্যাভলিন মহারণে?


