Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সমাজের একাংশ মনে করে, শিল্পসত্তা নিয়ে বাঁচা মানেই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ (Valobasa Valo Theko)। একটা কথা প্রচলিত আছে “যারা শিল্পসত্তায় থাকে তারা অনাহারে মরে।” কিন্তু এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে মফস্বলের কয়েকজন তরুণ-তরুণী। তারা স্বপ্ন দেখেছে, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে নিজেদের প্রচেষ্টায়। কোনও বড় প্রযোজনা সংস্থা নয়, নেই মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ তবুও তারা তৈরি করেছে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের স্বাদযুক্ত কাজ।

শূন্য অর্থে প্রথম নির্মাণের সাহস (Valobasa Valo Theko)
এই ছবির গল্প, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা সবই নির্মাতার নিজের। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ছিল প্রথম ও প্রধান বাধা। “জিরো ফাইনান্স”-এ তৈরি হয়েছে এই ছবি। কিন্তু অর্থের অভাব তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং সেই সীমাবদ্ধতাই হয়ে উঠেছে সৃষ্টির প্রেরণা। সামান্য সম্পদ, সীমিত সরঞ্জাম এবং অপরিসীম ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করেই শুরু হয়েছিল কাজটি। প্রথম কাজ হওয়া সত্ত্বেও নির্মাতা যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
মফস্বলের প্রতিভাদের একত্রিত করার প্রয়াস (Valobasa Valo Theko)
এই ছবির অন্যতম শক্তি তার শিল্পী নির্বাচন। অভিনেতা ও অভিনেত্রী উভয়েই অত্যন্ত দক্ষ এবং স্বাভাবিক অভিনয়ে পারদর্শী। শুধু লিড রোল নয়, মফস্বলের আরও কয়েকজন তরুণকে একত্রিত করে তাদের প্রতিভাকে সামনে আনা হয়েছে। যারা হয়তো কোনওদিন বড় পর্দায় সুযোগ পেত না, তাদের জন্য এই কাজটি হয়ে উঠেছে এক মূল্যবান মঞ্চ। এ যেন কেবল একটি ছবি নয়, বরং এক স্বপ্নের সমবায় উদ্যোগ।

প্রথাগত শর্ট ফিল্মের গণ্ডির বাইরে (Valobasa Valo Theko)
আজকাল আমরা যে ধরনের শর্ট ফিল্ম দেখতে অভ্যস্ত নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা, সীমিত পরিসরে নির্মিত এই কাজটি সেই প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু ভাবার চেষ্টা করেছে। এখানে আছে একটি “কমার্শিয়াল টাচ” দেখতে দেখতে মনে হবে যেন হলে বসে একটি ছোট্ট সিনেমা উপভোগ করছি। গল্প বলার ধরন, দৃশ্য নির্মাণ, সম্পাদনার ছন্দ সবকিছুতেই রয়েছে সিনেম্যাটিক ভাবনা। এটি কেবল একটি পরীক্ষামূলক কাজ নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা দেওয়ার সচেতন প্রচেষ্টা।

ছবির গান: অন্যরকম আকর্ষণ (Valobasa Valo Theko)
এই ছবির আরেকটি বিশেষ দিক তার গান। সাধারণ শর্ট ফিল্মে যেখানে গান প্রায় অনুপস্থিত বা গুরুত্বহীন, সেখানে এই ছবিতে একটি সম্পূর্ণ আলাদা স্বাদের গান রাখা হয়েছে। গানটি শুধু বিনোদনের উপাদান নয়, বরং গল্পের আবহ তৈরি ও আবেগ প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ছবিটিকে আরও বাণিজ্যিক ও স্মরণীয় করে তুলেছে।
বাণিজ্যিক ভাবনার পুনরাবিষ্কার (Valobasa Valo Theko)
আজকের দিনে আমরা অনেকেই “বাণিজ্যিক ছবি” শব্দটিকে অবজ্ঞার চোখে দেখি। অথচ বাণিজ্যিকভাবে একটি ছবি তৈরি করতে গেলে পরিকল্পনা, দর্শক মানসিকতা বোঝা এবং বিন্যাসের সূক্ষ্ম জ্ঞান প্রয়োজন। এই ছবি সেই বাণিজ্যিক ভাবনাকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে। কম অর্থে, সীমিত উপকরণে কীভাবে একটি আকর্ষণীয় ও দর্শকবান্ধব কাজ তৈরি করা যায় তার বাস্তব উদাহরণ এটি।

আরও পড়ুন: Uttar Pradesh: চলন্ত গাড়ির উপর হাইমাস্ট পোল! প্রতাপগড়ে চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনা!
প্রমাণ যে নতুন প্রজন্ম উদাসীন নয়
“সার্থক” এবং তার বন্ধুদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে নতুন প্রজন্ম শুধু ফোনে ডুবে থাকে না। তারা চুপচাপ নিজের মতো করে কাজ করে যায়, স্বপ্ন দেখে, লড়াই করে। বাড়ির বকুনি, সমাজের অবিশ্বাস, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সবকিছুর মাঝেও তারা সৃষ্টি করতে জানে। তারা প্রমাণ করেছে, সুযোগ না পেলে সুযোগ তৈরি করতে হয়।



