Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির (Vladimir Putin) পুতিন ঘোষণা করেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্লুটোনিয়াম চুক্তি বাতিল করেছেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ঠিক সেই সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার উপকূলে পরমাণু অস্ত্রবাহিত ডুবোজাহাজ মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন। ইউক্রেনে চলমান সংঘাত এবং যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত উত্তেজনার মধ্যেই পুতিনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। চুক্তি বাতিলের ফলে রাশিয়ার হাতে পূর্ণ স্বাধীনতা আসে, যার মাধ্যমে তারা সীমাহীন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে।
প্লুটোনিয়াম চুক্তি (Vladimir Putin)
১৯৯০-এর দশকে প্রথমবারের মতো এই প্লুটোনিয়াম চুক্তি (Vladimir Putin) স্বাক্ষরিত হয়। পরে, ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় এটি সংশোধিত হয়। নতুন চুক্তির লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে পরমাণু অস্ত্র প্রসার রোধ করা। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পনেরো বছর আগের সেই চুক্তিই সোমবার পুতিন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। চুক্তির অধীনে, দুই দেশ পর্যায়ক্রমে তাদের মজুত অতিরিক্ত প্লুটোনিয়ামের অংশ ধ্বংস করার জন্য সম্মত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: Draupadi Murmu: ইতিহাসে প্রথম, রাফালে উড়ান দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু!
ধ্বংস প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ (Vladimir Putin)
বর্তমানে, আমেরিকার হাতে প্রায় ৯০ টন এবং রাশিয়ার হাতে ১২৮ টন প্লুটোনিয়াম (Vladimir Putin) রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ নিজেদের অতিরিক্ত প্লুটোনিয়ামের উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস করতে বাধ্য ছিল-আমেরিকা ৬০ টন এবং রাশিয়া ৫০ টন। কিন্তু পুতিনের এই পদক্ষেপ সেই ধ্বংস প্রক্রিয়াকে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

শান্তি বৈঠক বাতিল
এর আগেও, ট্রাম্প এবং পুতিনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে শান্তি বৈঠক বাতিল করেন এবং জানান, যদি রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি না দেয়, তবে বৈঠক অর্থহীন। সেই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া সফলভাবে ‘বুরেভেস্টনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়, যা ১৪ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প এই পরীক্ষার পর মন্তব্য করেন, “আমাদের এত দূরে যাওয়ার দরকার নেই। রাশিয়ার উপকূলে আমাদের পরমাণু অস্ত্রবাহিত ডুবোজাহাজ রয়েছে।”
পরিস্থিতি আরও জটিল!
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি বাতিলের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষত, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। রাশিয়া-আমেরিকার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের এই মূল চুক্তি বাতিল হওয়ায়, বিশ্বের বড় পরমাণু শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন দৌড় শুরু হতে পারে।


