Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার মাঝে আবারও ভেসে উঠেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা (Vladimir Putin)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু রুশ কূটনীতির অবস্থান নয়, বরং ইউরোপ–রাশিয়া সম্পর্কে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিতও বহন করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়া যুদ্ধ করতে চায় না, তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ক্রেমলিন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই বক্তব্য এক নতুন সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে।

শান্তির ইচ্ছা নাকি কৌশলগত চাপ? (Vladimir Putin)
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে পুতিন আরেকবার পুনরাবৃত্তি করলেন তাঁর অবস্থান, “আমরা ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। একথা আমি শতবার বলেছি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের উপর হামলা চালায়, তবে আমরাও প্রস্তুত। এতে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়।” এই মন্তব্য শুধুমাত্র সুরক্ষা-নীতির প্রকাশ নয়; বরং ইউরোপীয় রাজনীতিকে চাপের মুখে ফেলারও কৌশল। ইউক্রেনের যুদ্ধ থামছে না, এর মধ্যেই রাশিয়া–ন্যাটো সম্পর্ক ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছে। পুতিনের এই কথার অর্থ অনেকে ব্যাখ্যা করছেন সতর্কতা হিসেবে, আবার অনেকেই বলছেন এটি যুদ্ধের হুমকি।
নতুন শীতল যুদ্ধের ছায়া (Vladimir Putin)
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই রাশিয়া একের পর এক নতুন অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করেছে। হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র, দীর্ঘ-পাল্লার মিসাইল, সাবমেরিন-ভিত্তিক স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র, অন্যদিকে আমেরিকা ও ন্যাটো দেশগুলিও পিছিয়ে নেই। ইউরোপে সামরিক মোতায়েন বাড়ানো থেকে শুরু করে নতুন অস্ত্র পরীক্ষা সব ক্ষেত্রে চলছে প্রতিযোগিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দ্বিতীয় শীতল যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে সামরিক প্রতিযোগিতাই ছিল মূল কেন্দ্রবিন্দু। আজও পরিস্থিতি প্রায় একই কে আগে অস্ত্র দেখাবে, কে আগে ক্ষমতা প্রমাণ করবে, সেই দৌড়ে নেমেছে দুই পক্ষই।
শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা? (Vladimir Putin)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ অবসানের চেষ্টা চলছে। সেই প্রক্রিয়ায় মস্কো সফরে এসেছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ঠিক এই বৈঠকের আগে পুতিন অভিযোগ তোলেন, “ইউরোপের নেতারাই যুদ্ধের পক্ষে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন এবং আলোচনার টেবিল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।” এই বক্তব্য ইউরোপকে সরাসরি অভিযুক্ত করে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই অভিযোগের লক্ষ্য হচ্ছে ইউরোপকে বিচ্ছিন্ন দেখানো এবং আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পথে চাপ প্রয়োগ করা।
রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা (Vladimir Putin)
সম্প্রতি সমুদ্রে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। পুতিন তা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “এটি জলদস্যুতা। যদি ইউক্রেন এভাবে চালিয়ে যায়, তবে আমরাও ওদের সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব।” একথা থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধক্ষেত্র শুধু স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নেই। সাগরপথেও শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ হারালে ইউক্রেনের যুদ্ধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটাই রাশিয়ার বার্তা।
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
কোন পথে যাবে সংঘাত?
কুশনার-উইটকফের সফর রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, তবে ইউরোপকে বাদ রেখে শান্তি সম্ভব কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। ইউরোপ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার প্রতি অবিশ্বাসী। পুতিনের বক্তব্য তাদের আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞই সতর্ক করেছেন একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি ভুল বোঝাবুঝি বা একটি আকস্মিক হামলা পুরো পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে।



