Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলেও পূর্ব কলকাতা, বিশেষ (Waterlogging in Kolkata) করে সল্টলেক ও নিউটাউনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও জলমগ্ন। কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমর ছুঁইছুঁই জল। এই পরিস্থিতিতে শহরের জনজীবন কার্যত থমকে গেছে। পাম্প বসিয়ে জল বের করার কাজ চললেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।
জল না নামা পর্যন্ত আর জ্বলেনি রাস্তার আলো (Waterlogging in Kolkata)
জলের মধ্যে দিয়ে ধীর গতিতে চলছে যানবাহন (Waterlogging in Kolkata)। কোথাও আবার গাড়ি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিধাননগর পুরসভা দুর্ঘটনা এড়াতে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে-সল্টলেকের সমস্ত অলিগলির পথবাতি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বন্ধ রাখা হবে। জল না নামা পর্যন্ত আর জ্বলেনি রাস্তার আলো। ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যাচ্ছে, লেকটাউন, পাতিপুকুর, বাঙুর, কৈখালি, হলদিরাম, নিউটাউন, বাগুইআটি, সিএ আইল্যান্ড সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও জল জমে রয়েছে।
রাস্তায় জল নামেনি (Waterlogging in Kolkata)
নবদিগন্ত ট্র্যাফিক গার্ড জানিয়েছে (Waterlogging in Kolkata), বক্স ব্রিজ, অ্যারিভা মোড়, গোদরেজ ওয়াটার সাইড, ২১৫ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএসটিসি পর্যন্ত রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত। টেকনো ইন্ডিয়া থেকে বেনফিশ যাওয়ার পথেও জল জমে রয়েছে। এমনকি সেক্টর ৫ মেট্রো স্টেশনের সামনেও যানবাহন চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। লেকটাউন ট্র্যাফিক গার্ডের এলাকা পাতিপুকুর, বাঙুর লিঙ্ক রোড, দমদম পার্ক, শ্রীভূমি সার্ভিস রোড ও এসকে দেব রোড-সব জায়গাতেই জমা জল মানুষকে নাজেহাল করে তুলেছে। এয়ারপোর্টগামী রাস্তায়ও জল নামেনি।

মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পথবাতি বন্ধ
বিধাননগরের পরিস্থিতিও একই। করুণাময়ী, সুশ্রুত, কাদাপাড়া, বিজন ভবন, নিউ ব্রিজ, ইন্দিরা ভবন, স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট-সব এলাকা জলমগ্ন। চিনারপার্ক ও হলদিরাম উড়ালপুলের অবস্থাও সঙ্কটজনক। কোথাও গাড়ি চলা অসম্ভব, কোথাও দীর্ঘ যানজট। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক করেন বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত ও মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পথবাতি বন্ধ রাখা হবে।
প্রসঙ্গত, শহরে এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে আটজনের। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ২৪৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় ২,৬৬৩ শতাংশ বেশি। এই দুর্যোগের পেছনে রয়েছে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের যৌথ প্রভাব। এর জেরে শহরের একাধিক এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়েছে, যা আগামী কয়েক দিনেও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই আশঙ্কা।


