Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির (WB Flood Situation) জন্য দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-কে দায়ী করে ফের রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। হুগলির আরামবাগ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ তোলেন, ডিভিসি আলোচনা ছাড়াই জল ছেড়েছে। এর ফলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ হয়েছেন ঘরছাড়া, বহু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য ঘিরে ক্ষোভ (WB Flood Situation)
এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন (WB Flood Situation) তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ডিভিসি পরিকল্পিতভাবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মদতে ‘ম্যান মেড বন্যা’ সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার কৌশলে তথ্য গোপন করছে এবং ডিভিসি-র মাধ্যমে বাংলার ক্ষতি সাধন করছে।
জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে চারটি প্রশ্ন (WB Flood Situation)
জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত (WB Flood Situation)। তিনি জানতে চান, গত ১৮ জুন থেকে ডিভিসি কি প্রায় ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে? যদি ছেড়ে থাকে, তবে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কি কোনও আলোচনা হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তা হলে তার তথ্য কোথায়? আর না হয়ে থাকলে, কেন হয়নি সেই আলোচনা?
প্রশ্নের জবাব
এই প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী সি আর পাতিল লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানান, ১৮ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ডিভিসি মোট ২৭,৯৮৭ লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে। তিনি জানান, জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একটি কমিটির মাধ্যমে, যেখানে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC), রিভার ম্যানেজমেন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিরা থাকেন। সেই কমিটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এবং সব পক্ষের পরামর্শে কাজ করে।
সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল
তবে এই জবাবে সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল। ঋতব্রতের বক্তব্য, ‘‘কমিটি থাকলেই তো হয় না, আলোচনাও হতে হয়। আর সেই আলোচনার কোনও প্রমাণ বা বিবরণ কেন্দ্র দেয়নি।’’ তাঁর অভিযোগ, কৌশলে কেন্দ্র শুধু ২৮ দিনের হিসাব দিচ্ছে । কিন্তু প্রকৃত জলছাড়ার পরিমাণ গত দুই মাসে প্রায় ৫০ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার ছাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: Mahua Moitra Reception: দিল্লিতে মহুয়া-পিনাকীর রাজকীয় রিসেপশন, উপস্থিত ছিলেন কারা?
তাঁর আরও দাবি, ২০২৩ সালের তুলনায় এই বছর জলছাড়ার পরিমাণ ৩০ গুণ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ১১ গুণ বেশি। তিনি বলেন, “বাংলাকে পরিকল্পিতভাবে ডুবিয়ে দিয়েছে ডিভিসি। এটি প্রকৃত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটা বিজেপি সরকারের ছক কষা ‘ম্যান মেড ডিজাস্টার’। জল দিয়ে বাংলা ভাসানো হয়েছে, ২০২৬-এ বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে।”


