Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত (Weight lose)! রোগা হওয়ার সহজতম উপায় হিসেবে বেশিরভাগ মানুষ বেছে নেন কঠোর ডায়েট। প্রথম কয়েক সপ্তাহে খানিকটা ওজন কমলেও হঠাৎ করে ওজন স্থির হয়ে যায় বা আর নামেই না। এতে অনেকে হতাশ হয়ে যান এবং আবার পুরোনো খাওয়ার অভ্যাসে ফিরে গিয়ে আগের তুলনায় আরও ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। আসলে এর মূল কারণ হলো ডায়েটে করা কিছু গুরুতর ভুল। শুধু খাবার কমানোই নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি, ব্যায়াম ও জীবনযাপনের ভারসাম্য না রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসে না।
কম খেলেই কি ওজন কমে (Weight lose)
অনেকের ধারণা, যত কম খাবো তত দ্রুত ওজন কমবে। কিন্তু শরীর খুব বুদ্ধিমান—হঠাৎ ক্যালোরি কমে গেলে সেটি “স্টারভেশন মোড” বা উপোসের সমতুল্য অবস্থায় চলে যায়। এর ফলে বিপাকক্রিয়া ধীরে হয়ে যায়। শরীর তখন কম শক্তি খরচ করতে শুরু করে, যাতে কম ক্যালোরিতেই টিকে থাকতে পারে। ফলে প্রথমদিকে কিছুটা ওজন কমলেও পরে তা থেমে যায়।
এছাড়া খুব কম খেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, মনমেজাজ খারাপ হয় এবং শক্তি না থাকায় কাজের প্রতি অনাগ্রহ জন্মায়। তাই ডায়েটে পর্যাপ্ত ক্যালোরি থাকা জরুরি, তবে সেটি যেন হয় স্বাস্থ্যকর উৎস থেকে পাওয়া ক্যালোরি।
প্রোটিনের ঘাটতি (Weight lose)
ওজন কমানোর অন্যতম শত্রু হলো প্রোটিনের অভাব। প্রোটিন শুধু শরীর গঠনের জন্যই নয়, বরং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অযথা বারবার ক্ষুধা লাগে না এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
অন্যদিকে, প্রোটিন হজম করার জন্য শরীরকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়, যা ক্যালোরি বার্ন বাড়ায়। কিন্তু অনেকেই ডায়েটে শুধু সালাদ, ফল বা ভাত-ডাল খেয়ে থাকেন—এতে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া যায় না। ফলে মাংসপেশি ক্ষয় হতে থাকে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ওজন কমানোর গতি থেমে যায়।
ডায়েটে নিয়মিত রাখতে হবে (Weight lose)
- ডিম, মাছ, মুরগি
- ডাল, ছোলা, রাজমা
- দুধ, দই, পনির
- সয়াবিন বা টোফু
লুকানো ক্যালোরির ফাঁদ
- চায়ের চিনি বা কফির ক্রিমার
- সালাদের ড্রেসিং, মায়োনিজ, সস
- প্যাকেটজাত জুস বা ঠাণ্ডা পানীয়
- ভাজা খাবার, চিপস বা বিস্কুট
ব্যায়ামের অভাব (Weight lose)
- শুধু খাবার কমালেই ওজন কমে না।
- শরীরের বাড়তি চর্বি ঝরাতে ব্যায়াম অপরিহার্য।
- হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, যোগব্যায়াম
- জিমে কার্ডিও বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং
ঘুম ও মানসিক চাপ (Weight lose)
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকেই ঘুম ও মানসিক প্রশান্তিকে অবহেলা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন ক্ষুধা বাড়ায় এবং শরীরে চর্বি জমতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ভালো ঘুমানো এবং স্ট্রেস ম্যানেজ করা জরুরি।
ওজন কমানো মানেই কম খাওয়া নয়!
- পর্যাপ্ত ও সুষম ডায়েট
- নিয়মিত ব্যায়াম
- প্রোটিনের সঠিক পরিমাণ
- লুকানো ক্যালোরি এড়িয়ে চলা
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি
শুধু খাবার কমানোই নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি, ব্যায়াম ও জীবনযাপনের ভারসাম্য না রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসে না।


