Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ল (Abhishek Banerjee)। ভোটের আগে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল, আর সেই আবহেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিইও দপ্তরে পদক্ষেপ নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে জঙ্গলমহলে কুড়মি ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।

ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি (Abhishek Banerjee)
বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এই ইস্যুতে একাধিকবার সরব হয়েছেন Mamata Banerjee। তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট অংশের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে বিপজ্জনক। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee সিইও দপ্তরে উপস্থিত হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তনু সেন এবং শ্রেয়া পান্ডে।
সিইও দপ্তরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি, উত্তেজনার আবহ (Abhishek Banerjee)
অভিষেকের আগমনের খবর ছড়াতেই সিইও দপ্তরের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি, বাইরের নিরাপত্তায় ছিল কলকাতা পুলিশের কড়া নজরদারি। সব মিলিয়ে সপ্তাহের শুরুতেই শিপিং কর্পোরেশন সংলগ্ন এই দপ্তর এলাকা রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

কার দিকে ঝুঁকছে সমীকরণ? (Abhishek Banerjee)
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে এবার গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে কুড়মি সম্প্রদায়ের ভোট। বিশেষ করে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও সংলগ্ন জঙ্গলমহল এলাকায় এই ভোটব্যাঙ্ক নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই আবহেই পুরুলিয়ার ঝালদায় এক প্রচার সভায় যোগ দেন Abhishek Banerjee।
কুড়মি দাবিতে তৃণমূলই একমাত্র সোচ্চার (Abhishek Banerjee)
সভা থেকে অভিষেক দাবি করেন, কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই পদক্ষেপ করেছে। তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজবংশী ভাষার বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়েছে।
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ (Abhishek Banerjee)
কেন্দ্রীয় সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, তাঁর বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন বিজেপি নেতারা, যেমন Jyotirmoy Singh Mahato।
কুড়মি রাজনীতিতে বিভাজনের অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
অভিষেকের বক্তব্যে উঠে আসে কুড়মি আন্দোলনের ভাঙনের প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজনের পথে হাঁটছেন। তিনি নাম করে অজিত মাহাতোর সমালোচনা করেন এবং বিজেপির সঙ্গে পরোক্ষ যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেন। তবে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট তারা বিভাজনের নয়, ঐক্যের রাজনীতি চায়।

আরও পড়ুন: Sandy Saha: কী হয়েছিল সেই ৪০ মিনিটে… স্যান্ডির বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়
ছৌ শিল্পী ও স্থানীয় উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি
রাজনীতির পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতিও উঠে আসে এই সভা থেকে। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডির চড়িদা গ্রামে ছৌ মুখোশ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২০০-২৫০টি পরিবার রয়েছে। এই শিল্পীদের জন্য একটি স্থায়ী মার্কেট তৈরির আশ্বাস দেন অভিষেক। পাশাপাশি বান্দোয়ান ও বাঘমুন্ডি এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়, যা স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।



