Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক আবহ ক্রমেই উষ্ণ হয়ে উঠছে (West Bengal Assembly Election)। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জনতা পার্টি -র তরফে ঘরে ঘরে পাঠানো চিঠি নিঃসন্দেহে এক কৌশলী রাজনৈতিক পদক্ষেপ। চিঠির শুরুতেই ‘জয় মা কালী’ উচ্চারণ বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুভূতিকে স্পর্শ করার এক সচেতন প্রয়াস বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বাংলার মাটি, তার শক্তির আরাধনা এবং জনমানসের গভীরে প্রোথিত কালীসাধনার ঐতিহ্য এই আবহকে সামনে রেখেই বার্তার সূচনা। এই চিঠিতে রাজ্যের গত এগারো বছরের প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও তথাকথিত ‘অপশাসন’-এর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এক ধরনের ‘বঞ্চনার রাজনীতি’র বয়ান নির্মাণের চেষ্টা স্পষ্ট।

উন্নয়নের দাবিতে পাল্টা আক্রমণ (West Bengal Assembly Election)
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, অটল পেনশন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা, চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও এই প্রকল্পগুলির সুবিধা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভোটমুখী বাংলায় নিজেদের সাফল্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাতকে সামনে রেখে বিজেপি একধরনের দ্বিমুখী কৌশল নিচ্ছে একদিকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ, অন্যদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
হারানো জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা? (West Bengal Assembly Election)
চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলনাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর উল্লেখ। এসআইআর ইস্যু ঘিরে বিতর্কের আবহে বিজেপির পক্ষে কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সেই প্রেক্ষাপটে সিএএ-কে সামনে এনে নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সিএএ বাংলায় বরাবরই একটি সংবেদনশীল বিষয়। সমর্থকদের মতে এটি নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব সুরক্ষা দেয়, আবার বিরোধীদের মতে এটি বিভাজনের রাজনীতি। ফলে এই ইস্যুকে সামনে আনা নিছক প্রশাসনিক নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের ফল।

মনীষীদের নামোল্লেখ (West Bengal Assembly Election)
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে একাধিক বাঙালি মনীষীর নাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষ চন্দ্র বসু, শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, রাজ্যের শাসক দল বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে মনীষীদের অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের নামোল্লেখ নিঃসন্দেহে একটি প্রতীকী বার্তা বাঙালির গর্ব ও ঐতিহ্যকে নিজের রাজনৈতিক ভাষ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস। প্রশ্ন উঠছে, এই নামোল্লেখ কি কেবল আবেগে আঘাত করার কৌশল, নাকি সত্যিই তাঁদের ভাবধারাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি? কারণ বাঙালি ভোটার আবেগপ্রবণ হলেও রাজনৈতিকভাবে সচেতন তাঁরা প্রতীক আর বাস্তবের ফারাক বোঝেন।
প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা কতদূর? (West Bengal Assembly Election)
চিঠিতে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। উন্নত অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা এই প্রতিশ্রুতিগুলি নতুন নয়। কিন্তু বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় আশানুরূপ ফল করতে না পারায় বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হল, কেবল চিঠি, সফর বা জনসভা দিয়ে কি বাংলার মন জয় সম্ভব? রাজনৈতিক দলগুলির ভিতরেও নাকি ফলাফল নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। কারণ বাংলার রাজনীতিতে সংগঠনগত শক্তি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি জনসংযোগ এই তিনটি উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
‘চিঠিতে কিছুই হবে না’?
রাজ্যের শাসক শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (তৃণমূল কংগ্রেস) আত্মবিশ্বাসী যে এই চিঠি ভোটের ফলাফলে বিশেষ প্রভাব ফেলবে না। তাঁদের মতে, উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পের বাস্তব কাজই ভোট নির্ধারণ করবে, চিঠির ভাষণ নয়। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, প্রতীক, আবেগ ও বার্তা এই তিনটির সমন্বয়ই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে। ফলে এই চিঠিকে একেবারে গুরুত্বহীন বলাও কঠিন।



