Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভায় অনুপ্রবেশ ও এসআইআর (West Bengal Budget 2026) ইস্যু ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক তরজা ছড়াল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বাঙালি পরিচয়, কেন্দ্রের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যের আপত্তি।
দ্বিচারিতার অভিযোগ (West Bengal Budget 2026)
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু শুধুমাত্র (West Bengal Budget 2026) পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করে তোলা হচ্ছে কেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। তাঁর যুক্তি, মিজোরাম ও অসমের মতো রাজ্যেও রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কেন এসআইআর প্রয়োগ করা হয়নি-এই প্রশ্ন তুলে তিনি কেন্দ্রের দ্বিচারিতার অভিযোগ করেন। পাশাপাশি, তিনি বলেন, বাংলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের অধিকার ও সম্মান খর্ব করার চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় গ্রন্থাগারে পেগাসাস লাগিয়েছেন অনুপ্রবেশের কথা বলছেন? একটা রোহিঙ্গা খুঁজে পেয়েছেন? ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্টে ভোট হয়েছে। তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলুন।

‘বাঙালি অস্মিতা’ (West Bengal Budget 2026)
বক্তৃতায় বারবার উঠে আসে ‘বাঙালি অস্মিতা’। মমতার অভিযোগ, ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন বা বৈষম্যের ঘটনায় বিজেপি নীরব থাকে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিরোধীদের প্রশ্ন করেন-এই সময় বাঙালি হিসেবে তাঁদের অবস্থান কোথায় ছিল? তাঁর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে বাঙালি পরিচয়কে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: Bengal Budget 2026: ভোটের আগে শেষ বাজেট, এসআইআর নিয়ে ভাষণ নয়!
এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, “আমরা কোর্টেও জিতি আমরা ভোটেও জিতি। কোর্টের নির্দেশ মেনেই আমরা চলব। আমরা গলা ফাটাচ্ছি মানুষের জন্য। আর আপনারা গলা ফাটাচ্ছেন রাজনীতির জন্য।”
রাজ্যপালের ভাষণ নিয়েও বিতর্ক
এদিন বিধানসভায় এক উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের সময় শাসক দলের কয়েকজন বিধায়ক প্রতিবাদ জানাতে উদ্যত হন। তখন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই হস্তক্ষেপ করে তাঁদের থামান এবং জানান, বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে দিতে হবে। অন্যদিকে, রাজ্যপালের ভাষণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সম্পূর্ণ ভাষণ পাঠ না করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্র-বিরোধী অংশে গিয়ে ভাষণ থমকে যায়। সব মিলিয়ে, এসআইআর ও অনুপ্রবেশ ইস্যু ঘিরে এই দিনের অধিবেশন স্পষ্ট করে দিল-ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে।


