Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন এখনও কিছুদিন বাকি, কিন্তু তার আগেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে এক বেনজির সংঘাতকে কেন্দ্র করে (Bengal 2026)। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র ম্যারাথন তল্লাশিকে কেন্দ্র করে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তার রেশ এখনও কাটেনি। এই লড়াই এখন আর শুধু এজেন্সির তল্লাশিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল বনাম কেন্দ্রের এক রাজনৈতিক দ্বৈরথ।
জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। আইপ্যাকের অফিসে ইডির হানার খবর পেয়ে সশরীরে সেখানে হাজির হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে ইডি-কে ব্যবহার করে ২০২৬ নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের রণকৌশল ও সংগৃহীত তথ্য হাতিয়ে নিতে চাইছে। এই নজিরবিহীন হস্তক্ষেপে একদিকে যেমন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা উজ্জীবিত, অন্যদিকে কেন্দ্রের তরফেও আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক তৎপরতা জারি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের কী মত? (Bengal 2026)
এই ঘটনার প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা পড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা চলছে (Bengal 2026)। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমন ভট্টাচার্য মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী এখানে প্রশাসনিক ক্ষমতার চেয়ে রাজনৈতিক চালকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, “খোদ মুখ্যমন্ত্রী এফআইআর করেছেন। রাজ্য পুলিশ চাইলে ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত, কিন্তু এখনও নেওয়া হয়নি। এর অর্থ হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিকভাবে এগিয়ে থেকেও এটাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। তিনি জানেন, তাঁকে গ্রেফতার করা সাংবিধানিকভাবে সম্ভব নয়। এমনকি যদি এই ইস্যুতে কেন্দ্র ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের চেষ্টা করে, তবে আখেরে লাভ তৃণমূলেরই হবে। রাজপথের লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই দক্ষ।”
আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: ২৬টি কবিতায় কি ২৬-এর ভোটের অঙ্ক কষলেন মমতা
অন্যদিকে, আর এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডঃ সৌমেন চক্রবর্তী বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে তদন্তকারী সংস্থা বনাম রাজ্য সরকারের এই টানাপোড়েন ভোটারদের কাছে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফলে বিজেপি এই তল্লাশি থেকে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড পাবে বলে তিনি মনে করছেন না।
আরও পড়ুন:Bhagavad Gita: ধর্মের রাজনীতিতে পেটের টান আজও সবচেয়ে বড় সত্য
ঘটনার পর ইডির ডিরেক্টর সরাসরি কলকাতায় এসে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা এই সংঘাতকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে। তৃণমূল যখন একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে পথে নেমেছে, তখন গেরুয়া শিবির দুর্নীতির পাল্টা তোপ দাগছে। তবে এই সংঘাত কি সত্যিই ছাব্বিশের নির্বাচনে (Bengal 2026) বড় কোনও ইস্যু হবে, নাকি সময়ের সাথে সাথে তা ফিকে হয়ে যাবে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে। আপাতত নজর এখন আদালতের রায় এবং দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


