Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার রাজনীতিতে এক সময় থেকে বারবার ঘুরে ফিরে আসে একটি প্রশ্ন, ভাত না ধর্ম? ভোটের ময়দান থেকে চায়ের দোকান, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মফস্বলের রাস্তাঘাট এই দ্বন্দ্ব যেন নিত্যসঙ্গী (Bhagavad Gita)। কখনও আমিষ প্যাটিস বিক্রি করে মার খেতে হয় রেজাউলকে, কখনও আবার শুধুমাত্র হিন্দু পরিচয়ের জন্য কুনজরে পড়েন কেউ কেউ। বিভাজনের রাজনীতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, রোজকার জীবনের সাধারণ পেশাও হয়ে উঠেছে সন্দেহের চোখে দেখার বিষয়। ঠিক এই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক কৃষক পরিবারের সন্তান যেন নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে পড়েছেন সম্পূর্ণ উল্টো দিকে।
ন্যাজাটের রাস্তায় এক অন্য ছবি (Bhagavad Gita)
উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের দক্ষিণ আখড়াতলা। গীতাপাঠের অনুষ্ঠান উপলক্ষে মানুষের ভিড়। মাইকে ভেসে আসছে শ্লোকের ধ্বনি। সেই অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই, পথের ধারে ছোট্ট পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক বই বিক্রেতা। পসরা ভর্তি শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা, পুরাণ, ধর্মগ্রন্থ ও নানা রকম বই। বিক্রেতার নাম রজ্জাক মুন্সি। ধর্মে মুসলিম। সারাদিন দাঁড়িয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চল্লিশটিরও বেশি গীতা বিক্রি করেছেন তিনি। যাঁরা কিনেছেন, প্রত্যেকেই হিন্দু। কেউ প্রশ্ন করেছেন, কেউ আবার নিঃশব্দে গীতা হাতে নিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন অনুষ্ঠানের দিকে। এই দৃশ্য যেন বিভেদের রাজনীতির মুখে এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।
কে এই রজ্জাক মুন্সি? (Bhagavad Gita)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালিকাতলার বাসিন্দা রজ্জাক মুন্সি কোনও বড় ব্যবসায়ী নন। কৃষক পরিবারের সন্তান। চাষবাসই তাঁর মূল পেশা। তবে সময় পেলেই তিনি বেরিয়ে পড়েন বই বিক্রি করতে মেলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, গীতাপাঠ, জলসা কোনও জায়গাই বাদ যায় না। সূত্রের খবর, নিজের কাজ নিয়ে রজ্জাক বলছেন, “এই কাজ আমি চার-পাঁচ বছর ধরে করছি। আমার ঠাকুরদাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বই বিক্রি করতেন। চাষের ফাঁকে যখন সময় পাই, তখনই বেরিয়ে পড়ি।” বংশপরম্পরায় বই বিক্রি ধর্ম নয়, পেশাই এখানে মুখ্য হয়ে ওঠে।
‘মুসলিম কেন গীতা বিক্রি করবে?’ (Bhagavad Gita)
সবাই অবশ্য সহজভাবে নেন না বিষয়টা। রজ্জাকের অভিজ্ঞতায়, “মাঝে মাঝে কেউ বলেন মুসলিম কেন গীতা বিক্রি করবে! আবার কেউ কেউ প্রশংসাও করেন।” তবে ভয়? সে প্রশ্নে তাঁর উত্তর আরও স্পষ্ট, “ভয় পাই না কোনও পক্ষকেই। আমি তো জলসাতেও গিয়েছি বই বিক্রি করতে!” এই আত্মবিশ্বাস আসলে অভ্যাসের নয়, বিশ্বাসের মানুষের উপর বিশ্বাস।
পেটের টান বনাম ধর্মের টান (Bhagavad Gita)
চারপাশে যখন ধর্মের নামে মারামারি, হিংসা, বিদ্বেষ তখন রজ্জাকের কাছে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি কোনও দর্শন টানেন না। সরাসরি বলেন, “পেটের টান তো আছেই। খিদে পেলে কী করবেন? আমি আমার কাজ করছি।” তবে এখানেই থেমে থাকেন না। তাঁর কথায় উঠে আসে এক গভীর মানবিক বোধ, “মানুষ বুঝি আমি। বিধর্মী কাজ পছন্দ করি না। মানবতা আগে। ধর্ম থাকবেই, কিন্তু কেউ তো কাউকে মারতে বলেনি!” এই একটি কথাই যেন গোটা বিতর্কের কেন্দ্রে আঘাত করে।

আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
সীমান্তবর্তী উত্তেজনার মাঝেও শান্তির সুর
ন্যাজাট-সহ এই অঞ্চল বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী। মাঝেমধ্যেই শোনা যায় নানা অশান্তির কথা গুজব, বিভেদ, উত্তেজনা। রাজনীতি এখানে সহজেই ধর্মের রং মাখিয়ে নেয়। কিন্তু ইছামতীর স্রোতের মতোই, সেই উত্তাল পরিবেশে রজ্জাক মুন্সিরা যেন অনুকূল বাতাস হয়ে জানান দেন, সবাই বিভাজন চায় না। সবাই ঘৃণার ভাষায় কথা বলে না।



