Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: যোগাযোগ ইতিহাসে রেডিও এক অনন্য আবিষ্কার। টেলিভিশন, ইন্টারনেট কিংবা স্মার্টফোনের বহু আগে মানুষের ঘরে ঘরে খবর, বিনোদন ও শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছিল রেডিও (World Radio Day 2026)। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-র কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনা, স্বাধীনতার ভাষণ, যুদ্ধের আপডেট কিংবা প্রিয় গানের অনুষ্ঠান সবই রেডিওকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল এক বিশেষ আবেগ। এই ঐতিহ্য ও সামাজিক অবদানকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব রেডিও দিবস।

বিশ্ব রেডিও দিবসের সূচনা (World Radio Day 2026)
বিশ্ব রেডিও দিবসের সূচনা করে ইউনেস্কো ২০১১ সালে। পরে ২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ ১৯৪৬ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ রেডিও। এই দিবসের লক্ষ্য, রেডিওর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে উৎসাহিত করা, সম্প্রচারকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা, গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে রেডিওর ভূমিকা তুলে ধরা, রেডিও এমন একটি মাধ্যম যা অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক ও সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। ইন্টারনেট বা দামী যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না একটি ছোট ট্রানজিস্টরই যথেষ্ট।
আকাশবাণীর উত্থান (World Radio Day 2026)
ভারতে রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় ১৯২৩ সালে। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় সম্প্রচার পরিষেবা, এবং ১৯৩৬ সালে তার নাম হয় অল ইন্ডিয়া রেডিও। স্বাধীনতার সময় দেশে ছিল মাত্র ছয়টি রেডিও স্টেশন। ১৯৫৬ সালে ‘আকাশবাণী’ নামটি সরকারি ভাবে গ্রহণ করা হয়। ১৯৫৭ সালে শুরু হয় জনপ্রিয় বিনোদনমূলক পরিষেবা ‘বিবিধ ভারতী’, যা সাধারণ মানুষের মন জয় করে নেয়। আকাশবাণীর মূল মন্ত্র “বহুজন হিতায়, বহুজন সুখায়।” আজ এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সম্প্রচার সংস্থা, বহু ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় পৌঁছে যায়। বেসরকারি এফএম চ্যানেলগুলিও আজ স্থানীয় সংস্কৃতি, গান ও সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঐতিহাসিক মুহূর্তে রেডিওর অবদান (World Radio Day 2026)
রেডিও শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৩৩ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট -এর ‘ফায়ারসাইড চ্যাট’ মার্কিন নাগরিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিল -এর ভাষণ ব্রিটিশ জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
১৯৩৮ সালে ওরসন ওয়েলস -এর ‘বিশ্বযুদ্ধ’ সম্প্রচার দেখিয়ে দেয় রেডিওর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। ভারতে স্বাধীনতার প্রাক্কালেজওহরলাল নেহেরু -এর ঐতিহাসিক ভাষণ কোটি মানুষের মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলে। প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার মেলভিল ডি মেলো মহাত্মা গান্ধীর শেষযাত্রার আবেগঘন সম্প্রচারের মাধ্যমে রেডিও ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
‘গোল্ডেন ভয়েস’ নামে খ্যাত আমীন সায়ানী -এর ‘গীতমালা’ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সংগীতের সেতুবন্ধনে যুক্ত করেছে।
২০২৬ সালের থিম (World Radio Day 2026)
বিশ্ব রেডিও দিবস ২০২৬-এর থিম “রেডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি হাতিয়ার, কণ্ঠস্বর নয়” এই থিমের মূল বক্তব্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রেডিও সম্প্রচারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও মানবিক কণ্ঠস্বর ও নৈতিকতা সর্বাগ্রে থাকতে হবে। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে, অনুষ্ঠান সংরক্ষণ ও আর্কাইভিং, ভাষান্তর ও সাবটাইটেল, শ্রোতাদের আচরণ বিশ্লেষণ, দ্রুত সংবাদ পরিবেশন, এসব ক্ষেত্রে উন্নতি সম্ভব। তবে সংবাদ ও মতামতের ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবোধ, সততা ও সংবেদনশীলতার বিকল্প AI নয়।
রায়পুরে বিশ্ব রেডিও দিবস কনক্লেভ ২০২৬ (World Radio Day 2026)
এই উপলক্ষে আকাশবাণী রায়পুরে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় আয়োজন করেছে বিশেষ কনক্লেভ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাঁই । সম্মেলনে আলোচনা হবে, রেডিও ও এআই -এর সমন্বয়, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ সম্প্রচার ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, এই আয়োজন প্রমাণ করে, ডিজিটাল যুগেও রেডিও তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেছে।
আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
ডিজিটাল যুগে রেডিওর নতুন রূপ
বর্তমানে রেডিও শুধু ট্রানজিস্টরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এখন পডকাস্ট, অনলাইন স্ট্রিমিং এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রেডিওর শক্তিকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। রেডিও একদিকে যেমন ঘনিষ্ঠ কারণ এটি শ্রোতার কানে সরাসরি কথা বলে; অন্যদিকে এটি বিস্তৃত, কারণ এটি সীমান্ত পেরিয়ে মানুষকে যুক্ত করে।



