Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একরাশ মনখারাপ নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বছর (Hema Malini)। বলিউডের ইতিহাসে যাঁরা শুধু পর্দার জুটি নন, বাস্তব জীবনেও ছিলেন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ সেই ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর নাম আজও আবেগ ছড়িয়ে দেয় অগণিত অনুরাগীর মনে। ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পরে প্রথমবার মুখ খুলে হেমা মালিনী যে কথাগুলি বলেছেন, তা শুধু একজন স্ত্রীর শোক নয়, বরং এক দীর্ঘ জীবনপথের স্মৃতি, দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দলিল।

আজীবনের সঙ্গী হারানোর শূন্যতা (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু হেমা মালিনীর জীবনে যে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। আজীবনের সঙ্গীকে হারানোর যন্ত্রণা ভাষায় ধরা কঠিন সে কথা তিনি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। একসঙ্গে কাটানো দশকের পর দশক, পারিবারিক মুহূর্ত, লোনাভালার ফার্মহাউসে নিরিবিলি সময় সব মিলিয়ে এই বিচ্ছেদ শুধু ব্যক্তিগত নয়, এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি।
অসুস্থতার সময়ে মিডিয়া-চর্চা (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্র অসুস্থ থাকাকালীন সময়ে সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলেছে, যা পরিবারকে প্রবল মানসিক চাপে ফেলেছিল। হেমা মালিনী জানিয়েছেন, সেই সময়টা তাঁদের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি অযথা প্রশ্ন, গুজব ও অনুমানের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁদের। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সংযত ও নীরব হতে শিখিয়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।

আলাদা স্মরণসভা! (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সানি দেওল, ববি দেওল ও হেমা মালিনীর আলাদা আলাদা স্মরণসভার আয়োজন। এই বিষয়টি নিয়ে পরিবার কখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেনি, কিন্তু বারবার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। অবশেষে হেমা মালিনী স্পষ্ট করে বলেন, এটি তাঁদের পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই তাঁরা যা করেছেন, তাতে বাইরের কারও মতামতের প্রয়োজন নেই।
রাজনৈতিক দায়িত্ব ও দিল্লির প্রার্থনা সভা (Hema Malini)
হেমা মালিনী শুধু অভিনেত্রী নন, একজন সক্রিয় রাজনীতিকও। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর একটি রাজনৈতিক দিক রয়েছে, যা অস্বীকার করার নয়। দিল্লিতে স্মরণসভার আয়োজন করার পেছনে ছিল তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। সেই এলাকার বহু মানুষ ধর্মেন্দ্রর ভক্ত ছিলেন, তাঁদের জন্য প্রার্থনা সভার আয়োজন করাটা তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন। এই সিদ্ধান্তে তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট এমনটাই জানিয়েছেন হেমা।
লোনাভালার ফার্মহাউস কি হবে জাদুঘর? (Hema Malini)
ধর্মেন্দ্রর প্রিয় লোনাভালার ফার্মহাউসকে ভবিষ্যতে ভক্তদের জন্য জাদুঘরে পরিণত করা হতে পারে কি না এই প্রশ্নও উঠে এসেছে। উত্তরে হেমা মালিনী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সানি দেওল হয়তো কিছু ভাবছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সানি যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা ভেবেচিন্তেই নেবেন। আপাতত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছে, তাই এই নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কোনও কারণ নেই।
আরও পড়ুন: TMC Leader: তৃণমূল নেতার টেবিলে টাকার পাহাড়! নিমেষে ভাইরাল ভিডিও
দুটি পরিবার, তবু স্থিতি ও সম্মান
হেমা মালিনীর কথায় উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য দুটি ভিন্ন পরিবার হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং সম্মানের সঙ্গেই সবকিছু সামলানো হচ্ছে। কে কী করবে, ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে অযথা জল্পনার প্রয়োজন নেই। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সবাই ভালো আছেন এবং নিজেদের মতো করেই শোক সামলাচ্ছেন।



