Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের ক্রমবর্ধমান শিক্ষিত বেকার সমস্যার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালু করেছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প (Yuba Sathi)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস অটুট রাখা। বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা (Yuba Sathi)
বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষিত যুব সমাজের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছেন। বহু তরুণ-তরুণী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেও স্থায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। ফলে পরিবারে আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানসিক অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রাজ্য সরকার যুবসাথী প্রকল্প চালু করেছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষিত বেকারদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, কর্মসংস্থানের সন্ধানকালীন সময়ে ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুবসমাজকে স্বনির্ভর ও কর্মমুখী রাখতে সহায়তা করা, এটি এক অর্থে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের অংশ, যা রাজ্যের উন্নয়ন নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
কারা আবেদন করতে পারবেন? (Yuba Sathi)
যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হয়। সাধারণত, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে, বর্তমানে কোনও সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে নিযুক্ত থাকা চলবে না, যদিও সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি সময়ে সময়ে সংশোধিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি।

ধাপে ধাপে নির্দেশিকা (Yuba Sathi)
প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করতে আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। নিচে আবেদন পদ্ধতি তুলে ধরা হলো—
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে https://apas.wb.gov.in/ ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
২. ‘Click to Apply’ নির্বাচন
হোমপেজে ‘Click to Apply’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
৩. মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন
আবেদনকারীর সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিতে হবে। OTP ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।
৪. আবেদন ফর্ম পূরণ
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আবেদন ফর্ম খুলবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ পূরণ করতে হবে।
৫. নথি আপলোড
প্রয়োজনীয় নথি (পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ ইত্যাদি) স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
৬. সাবমিট ও ডাউনলোড
সব তথ্য যাচাই করে ফর্ম সাবমিট করতে হবে এবং আবেদনপত্রের কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়।
আবেদনপত্রের স্টেটাস কীভাবে জানবেন? (Yuba Sathi)
অনেক আবেদনকারীরই প্রশ্ন, আবেদন ঠিকমতো জমা পড়েছে কি না, তা কীভাবে জানবেন? এর জন্য, ওয়েবসাইটে ‘Check Status’ অপশনে ক্লিক করতে হবে, আবেদনকালে দেওয়া মোবাইল নম্বর দিতে হবে, OTP যাচাইয়ের পর স্ক্রিনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখা যাবে, যদি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শিত হয়, তাহলে বোঝা যাবে যে আবেদন প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার নিশ্চয়তা। পরবর্তী যাচাই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে জানা সম্ভব নাও হতে পারে।
বিকল্প ব্যবস্থা (Yuba Sathi)
যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে অসুবিধা অনুভব করছেন, তাঁদের জন্য বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে আবেদন করা যায়। এটি বিশেষত গ্রামীণ ও প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার যুবকদের জন্য সহায়ক।
সময়সীমা ও সতর্কতা (Yuba Sathi)
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ তারিখের আগে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। দেরি করলে আবেদন গ্রহণ নাও করা হতে পারে। এছাড়া, সঠিক তথ্য প্রদান করা আবশ্যক, নথি পরিষ্কার ও বৈধ হতে হবে, মোবাইল নম্বর সক্রিয় রাখতে হবে, ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: Sundar Pichai: এআই দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ভারত? অল্টম্যানের পর পিচাইয়ের বড় বার্তা!
অর্থনৈতিক প্রভাব
যুবসাথী প্রকল্প কেবল একটি আর্থিক ভাতা নয়; এটি যুব সমাজকে মানসিকভাবে দৃঢ় রাখার একটি পদক্ষেপ। কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িক সহায়তা একজন তরুণকে হতাশার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রকল্প যুবসমাজকে কর্মমুখী রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।



