Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক (Zohran Mamdani) পরিবর্তনের সূচনা ঘটালেন জোহরান মমদানি। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে শহরের মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু নিউ ইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ নেতা নন, বরং ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়রও। তাঁর এই জয়কে অনেকে দেখছেন মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে-যেখানে তরুণ, প্রবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর প্রথমবারের মতো শহরের নেতৃত্বে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা (Zohran Mamdani)
মমদানির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই ছিল ভিন্ন সুরে (Zohran Mamdani) আরোপিত। তিনি কথা বলেছেন জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সাশ্রয়ী বাসস্থান, এবং সাধারণ নিউ ইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন সংগ্রাম নিয়ে। শহরজুড়ে ভাড়া স্থগিত রাখা, গণপরিবহনে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ, সরকারি মালিকানাধীন মুদি দোকান স্থাপন এবং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডে-কেয়ার সেবার মতো প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এসব প্রতিশ্রুতির দরুণ তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পান তিনি।
রাজনৈতিক বার্তা (Zohran Mamdani)
জয়ের রাতে তাঁর ভাষণ যেন ছিল এক রাজনৈতিক (Zohran Mamdani) বার্তা। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক অভিবাসীদের শহর, অভিবাসীদের শ্রমে গড়া এই শহর আজ অভিবাসীর হাতেই নেতৃত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, শুনে রাখুন-আমাদের মধ্যে বাধা হয়ে আসতে চাইলে, আপনাকে আমাদের সবাইকে অতিক্রম করতে হবে।”
পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ
তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি এক পরোক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে। তবে ট্রাম্প পরে এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, “আমরা হয়তো নিউ ইয়র্কে কিছুটা সার্বভৌমত্ব হারিয়েছি, কিন্তু শহরটিকে শুভকামনা জানাই।”
হোয়াইট হাউসের দিকেও নজর
মমদানির উত্থান যত দ্রুত ঘটেছে, ততই বেড়েছে তাঁর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা। সমাজ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অনেকে বলছেন, একদিন হয়তো তিনি হোয়াইট হাউসের দিকেও নজর দেবেন। তবে মার্কিন সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, সেটি সম্ভব নয়। কারণ, প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে প্রার্থীকে “জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক” হতে হয়। মামদানি জন্মেছেন উগান্ডার কাম্পালায়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাবা-মায়ের ঘরে। তিনি ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব লাভ করেন, অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে একজন ‘ন্যাচারালাইজড সিটিজেন’। এই কারণে তিনি কখনও প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে পারবেন না, যতই জনপ্রিয়তা অর্জন করুন না কেন।
রাজনৈতিক প্রভাব
তবু এই সীমাবদ্ধতা তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে পারেনি। বরং তাঁর জয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নতুন উদ্দীপনা পেয়েছে। একই নির্বাচনে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পপন্থী রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এক প্রবল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: France: মুহূর্তেই সব লন্ডভন্ড, পথচারীদের পিষে দিল জঙ্গি!
মমদানি বলেন, “শ্রমজীবী আমেরিকানদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়-তার সমাধান করতে হবে।” এই বক্তব্য যেন আজকের আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু। নিউ ইয়র্কের এই নতুন মেয়র তাই শুধু একটি শহরের নেতা নন, বরং এক প্রজন্মের আশা ও পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠছেন।


