Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আলোর মাঝে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা (Zubeen Garg)। দীপাবলির উৎসবে যখন গোটা বাংলা আলোয় মোড়া, তখনও শোকগ্রস্ত অসম। দীপাবলির আনন্দ থেকে একেবারে আলাদা হয়ে পড়েছে অসম। চারপাশে আলো, অথচ মন ভার। জুবিনকে এখনো মানুষ ভুলতে পারছে না, আর ভোলা সম্ভবও নয়। এরই মাঝে দেখা গেল অনবদ্য উদ্যোগ।

ভিন্ন রূপে পুজোর থিম (Zubeen Garg)
এই আবহেই মধ্যমগ্রামের একটি কালীপুজো কমিটি ভিন্ন পথে হাঁটল। তারা এবার পুজো উৎসর্গ করেছে প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গ-কে (Zubeen Garg)। থিমে উঠে এসেছে এক অভিনব ভাবনা। তুলে ধরা হয়েছে এক সমাধিস্থলের ছবি, যেটি হুবহু মেলে অসমের একটি জায়গার সঙ্গে। এও শোনা যায়, জুবিন নাকি শান্তির খোঁজে, কখনও মনস্থির করতে চলে যেতেন শ্মশানে। অনেকের ধারণা,তিনি অনেক সময় মানুষের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে ভালোবাসতেন ।
উৎসর্গ করা (Zubeen Garg)
মধ্যমগ্রামের এই কালীপুজো একেবারেই আলাদা রকমের। নেই আলোর ঝলকানি, নেই চমকপ্রদ প্যান্ডেল। খুব সাদামাঠা ভাবে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। তবে সেই সাধারণতার মধ্যেই রয়েছে গভীর বার্তা। গানের মধ্য দিয়ে জুবিনকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। প্যান্ডেলে আসা দর্শনার্থীরাও মুগ্ধ এই ভাবনায়। অনেকেই বলেছেন, “এটা এক অন্যরকম কালীপুজো। এখানে আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনুভূতির গভীরতা।”

এক অন্যরকম বার্তা (Zubeen Garg)
এই থিমের মাধ্যমে শুধু জুবিন গর্গকে (Zubeen Garg) শ্রদ্ধা জানানো হয়নি, বরং এক নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে। কখনও কখনও উৎসব মানে শুধুই আনন্দ নয়, শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও মানবিকতাও এর অঙ্গ। মানুষের কষ্ট, তাদের অভিজ্ঞতা – সব কিছুই উঠে আসতে পারে প্যান্ডেলের থিমে।
গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ (Zubeen Garg)
মধ্যমগ্রামের এই কালীপুজো এবছর আলাদা করে মনে থাকবে অনেকের কাছে। কারণ এ পুজো শুধু দেবী বন্দনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একজন শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। দীপাবলির আলোয় যেমন আনন্দ, তেমনি কোথাও যেন একটুকরো নিঃশব্দ ভালোবাসা, যেটা জুবিন গর্গের (Zubeen Garg) স্মৃতিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
আরও পড়ুন: Debaparna: কাজ থেকে হঠাৎ ডুব, এবার নতুন রূপে ফিরছেন সবার প্রিয় ‘ অনু ‘!
মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া (Zubeen Garg)
জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার জুবিন গর্গের অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া গোটা সংগীতজগতে। শুধু অসম নয়, বাংলা ও হিন্দি সংগীতপ্রেমীদের কাছেও জুবিন ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় নাম। ‘ইয়া আলি’, ‘ প্রিয়া রে প্রিয়া’, ‘ ও বন্ধু রে’,এমন অনেক গান আজও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে তাঁর কণ্ঠে।
প্রসঙ্গত, জুবিন গর্গ শুধু গায়ক নন, ছিলেন এক সাহসী কণ্ঠস্বর। সমাজ, প্রেম, জীবন— সবকিছু নিয়ে কথা বলতেন তাঁর গানে। তাঁর কণ্ঠে ছিল অনন্য আবেগ, আর সুর। তাঁর মৃত্যুতে যেমন হারাল সংগীতজগৎ এক অনন্য প্রতিভা, তেমনই কেঁদে উঠেছে লক্ষ শ্রোতার মন। জুবিন আজ নেই। কিন্তু তাঁর গান, তাঁর দর্শন, তাঁর জীবনবোধ থেকে যাবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।



