Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাহাঙ্গীর বাদশা, পূর্ব মেদিনীপুর: পাঁশকুড়া সুপার (Blood Scam Probe) স্পেশালিটি হাসপাতালে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবার হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে রক্ত বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এই অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
ল্যাব টেকনিশিয়ান গ্রেফতার (Blood Scam Probe)
জানা গিয়েছে, রক্ত সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে (Blood Scam Probe) এর আগেও কলকাতায় এক ল্যাব টেকনিশিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের তিন ল্যাব টেকনিশিয়ান-সুব্রত দাস, মান্তু দাস এবং নজরুল ইসলামকে কলকাতায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তৎপর স্বাস্থ্য দপ্তর (Blood Scam Probe)
তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানের গ্রেফতারের পরেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তৎপর হয় স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ স্বাস্থ্য ভবনের জয়েন্ট ডিরেক্টর সুব্রত রায় পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছন। তাঁর নেতৃত্বে ব্লাড ব্যাঙ্কের কার্যপ্রণালী, রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
তদন্তের স্বার্থে স্বাস্থ্য ভবনের জয়েন্ট ডিরেক্টর সুব্রত রায় পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH), হাসপাতাল সুপার এবং স্বাস্থ্য ভবনের অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র ও প্রক্রিয়া নিয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ল্যাব পরিদর্শন করেন। সেখানে রক্ত সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো, সংশ্লিষ্ট কাজের পদ্ধতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
রিপোর্ট সামনে আসার পরে অপেক্ষা
তবে ঠিক কীভাবে এই অভিযোগের সূত্রপাত, রক্ত বিক্রির অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের কার্যপ্রণালীতে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না-তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পরেই গোটা বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Cannabis Seizure: পাঁশকুড়ার সিদ্ধা বাজারে ১৩৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ২
পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং একাধিক কর্মীর গ্রেফতারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়ে। এখন স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কতটা সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।


