Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ক্যামাক স্ট্রিটে একটি রাজনৈতিক কার্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক (Sujan Chakraborty)। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নামে থাকা একটি ব্যানার বা বিলবোর্ড সরাতে সেখানে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার কর্মীরা পৌঁছন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভাঙচুর, বাধা দেওয়ার চেষ্টা এবং হাতাহাতির মতো ঘটনাও সামনে আসে। এই পরিস্থিতিকে কোনওভাবেই গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন না সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী।

‘ভালো লক্ষণ নয়’, মন্তব্য সুজনের (Sujan Chakraborty)
সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা কখনোই ভালো লক্ষণ নয়। তাঁর দাবি, ওই কার্যালয়টি তৃণমূলের রেজিস্টার্ড অফিস কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সেটি যে তৃণমূলের রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে পরিচিত, তা সকলেরই জানা। ফলে কোনও রাজনৈতিক দলের অফিসে এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।
আইনি প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন (Sujan Chakraborty)
সুজনের মূল প্রশ্ন, যদি কোনও ব্যানার বা বিলবোর্ড বেআইনি হয়ে থাকে, তাহলে কেন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হল না? তাঁর মতে, পুরসভা বা পুলিশ প্রথমে নোটিস দিতে পারত এবং সেই নোটিসের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু সরাসরি গ্যাস কাটার নিয়ে কর্মীদের উপস্থিতি এবং তা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়াকে তিনি সমর্থনযোগ্য মনে করছেন না।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইনই শেষ কথা (Sujan Chakraborty)
তৃণমূলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম-সহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে সরব হয়ে সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার পথেই কেন যাওয়া হবে না? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ, তদন্ত এবং আইনের ভিত্তিতে—শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।
‘অক্সিজেন’ দেওয়ার অভিযোগ (Sujan Chakraborty)
সুজনের আরও দাবি, এ ধরনের ঘটনা উল্টে তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা করে দিতে পারে। তাঁর মতে, যে সমস্ত আইনি পথে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলি ছেড়ে দিয়ে অফিস ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্ট দলই জনসমক্ষে নিজেদের ‘আক্রান্ত’ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন: Nepal Flash Flood: হিমবাহ ধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা? কী বলছেন ভূবিজ্ঞানীরা?
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি আইনের শাসন
সবশেষে সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের অফিসে গায়ের জোরে বা জবরদস্তি করে ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক পথ হতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, অভিযোগও থাকতে পারে। কিন্তু তার মোকাবিলার পথ হওয়া উচিত আইনের শাসন। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা সেই প্রশ্নই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে—রাজনৈতিক সংঘাতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসন কি শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়াকেই অগ্রাধিকার দেবে?



