Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফের সরব হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ছাত্র সংসদের ভোট না হলে শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের ছাত্র আন্দোলনের ধারাই ব্যাহত হবে (Ritabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি তাঁর।
রিপন কলেজের ইতিহাস টেনে প্রশ্ন (Ritabrata Banerjee)
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পুরনো নাম রিপন কলেজের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ১৯১৯ সালেও সেখানে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক নজির সামনে রেখে তাঁর প্রশ্ন, এত বছর পরেও কেন ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে?
ক্ষমতায় এসে ভোট বন্ধের অভিযোগ (Ritabrata Banerjee)
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। অথচ ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকারের আমলেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর কাছেও নির্বাচনের দাবি জানান ঋতব্রত।

“১০০ দিন পেরিয়েও কেন নীরবতা?” (Ritabrata Banerjee)
বর্তমান সরকারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পার হয়ে গেলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। তাঁর মতে, সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে হবে—নির্বাচন হবে কি হবে না। অনিশ্চয়তার মধ্যে ছাত্র রাজনীতি চলতে পারে না বলেও দাবি করেন তিনি।
কুনাল ঘোষকে নিশানা করে ব্যক্তিগত কটাক্ষ (Ritabrata Banerjee)
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষকেও তীব্র কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, ১৯৮৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ না হয়েও কীভাবে তিনি বড় ছাত্র সংগঠনের নেতা হয়ে উঠেছিলেন, সেই প্রশ্ন রয়েছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কুনাল ঘোষের ছাত্র রাজনীতির যোগ্যতা ও অতীতকে নিশানা করেন তিনি।
চাঁদা তুলে আন্দোলন চালানোর অভিযোগ
ছাত্র সংগঠন পরিচালনার আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের নিজেদের টাকা এবং চাঁদা তুলে সংগঠনের কাজ চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে কেলেঙ্কারির পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: Nepal China: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: চিনের দিকে আঙুল, অভিযোগ উড়িয়ে মুখ খুলল বেইজিং
সব মিলিয়ে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের ছাত্র রাজনীতির অতীত নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।



