Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অমল চক্রবর্তী, হুগলি: ১০মিনিটের চায়ের বিরতি প্রাণে (Nepal Flood) বাঁচলেন উত্তরপাড়ার প্রাক্তন শিক্ষিকা। নেপালে বিপর্যয়ের জন্য চীনকে দায়ী করলেন, মৃত্যু মুখ থেকে ফিরলেও আবার যেতে চান কৈলাশ।
ভ্রমণের ইচ্ছে অটল (Nepal Flood)
এবারই ছিলো শেষ সুযোগ কৈলাশ মানস (Nepal Flood) সরোবরে যাওয়ার। নেপালে ভোটেকোশি নদীতে হিমবাহ বিস্ফোরনে জলোচ্ছাসে সব ভেসে যাওয়ায় তা আর হল না। অল্পের জন্য জীবন বেঁচেছে। তবে পরের বার সত্তর বছর বয়স হলেও হেলিকপ্টারে যাবেন কৈলাশ মানস সরোবরের জল তুলে মাথায় দেবেন। কৈলাশে যিনি বসে আছেন তার জন্য নতুন জীবন পেয়েছেন মনে করেন উত্তরপাড়ার পর্যটক অঞ্জনা সান্যাল।

জীবন বাঁচালো ১০ মিনিট (Nepal Flood)
কলকাতার এক ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে গিয়েছিলেন (Nepal Flood) নেপাল। মানস সরোবর কৈলাশ যাওয়ার সময় হরপা বানের মুখে পরেন। উত্তরপাড়ার ব্যনার্জী পাড়া স্টিটের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা অঞ্জনা সান্যাল(৬৯)। সতেরো জনের দল তাদের ছিলো। গত ২৬ তারিখ কাঠমান্ডু থেকে বাসে করে চিনা ইমিগ্রেশন দপ্তরের দিকে রওনা দেন তারা। মাঝে রিফ্রেস হওয়ার জন্য বাস দাঁড়ায়। কেউ কেউ চা খান। দশ মিনিট পর বাস ছাড়ে। তবে বাস চালকের কাছে তখন খবর এসে গেছে নদীতে হরপা বান ডেকেছে।
কী জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী?
দ্রুত বাস ঘুরিয়ে আবার কাঠমান্ডুর দিকে ফিরে যান তারা। চোখের সামনে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে দেখে চোখ দিয়ে জল পরতে থাকে অঞ্জনা সান্যালের। তিনি বলেন, “আমরা যখন বেরোলাম পরিষ্কার রৌদ্রজ্জ্বল আকাশ। হঠাৎ করেই কিছুটা দূরে দেখি ধোঁয়ার কুন্ডলীর মত। নদীর জলরাশি মেঘের মতো নেমে আসছে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি বড় বিপদ কিছু একটা হতে চলেছে। বাসের চালক তৎপর ছিলো। তড়িঘড়ি বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে রওনা দেয়। আরেকটু এগিয়ে গেলেই আমরা আমাদের বাস রাস্তায় জ্যামে পরে যেত। তখন আর ঘুরিয়ে ফেরার কোন রাস্তা থাকতো না।”
চীনই দায়ী!
নেপালের এই বিপর্যয়ের পিছনে চীনকে দায়ী করেন অঞ্জনা সান্যাল। তিনি বলেন, “হিমবাহ যখন ভেঙে পড়ে তারপর থেকে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় পেয়েছিল নেপাল। চীন যদি আগে থেকেই জানিয়ে দিত এই ঘটনা তাহলে এত মানুষের প্রাণ যেত না।
এবারে কৈলাস মানুষ সরোবর যাওয়া হলো না আগামীবার ৭০ বছর হয়ে যাবে তাই ছাড়পত্র পাওয়া যাবে না। তবে হেলিকপ্টারে করে কৈলাসে এরিয়াল ভ্রমণ করা যায় আমার ছেলে বলেছে। মানস সরোবরেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে।”

উত্তরপাড়া প্রাক্তন শিক্ষিকার বেড়ানোর অভ্যাস দীর্ঘদিনের। কলকাতার তিনটি ভ্রমণ সংস্থা সঙ্গে তিনি দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। তবে এবারের নেপালের অভিজ্ঞতা ভয়াবহ।
প্রাক্তন শিক্ষিকা বলেন, “কৈলাশ যেতে না পারায় ভেবেছিলাম কি পাপ করলাম এত কাছে এসেও কৈলাশ দর্শন হলো না।
আবার মৃত্যু মুখ থেকে প্রাণে বাঁচার পর ভাবলাম কিছু পূন্যের ফল।”
আরও পড়ুন: Desu 7 Teaser: “এবার ফিরলে একা ফিরব না…” দেবের এক সংলাপেই তুঙ্গে ‘দেশু ৭’-এর উন্মাদনা!
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন এই রাজ্যের যত পর্যটক নেপালে রয়েছেন তাদের ফেরার সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হবে।অঞ্জনা দেবী জানান, “খুবই ভালো উদ্যোগ ছিল সরকারের। যদিও আমরা তার আগেই রক্তল থেকে ট্রেনে চেপে পড়ি। রবিবার ভোরে মিথিলা এক্সপ্রেসে হাওড়া এসে পৌঁছাই।”


