Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম (Novak Djokovic)। পুরুষদের একক টেনিসে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচের। ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের এক দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর পাঁচ সেটের লড়াইয়ে সার্বিয়ান তারকাকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ইউএস ওপেন থেকে বিদায় করে দিলেন আর্জেন্টিনার তরুণ খেলোয়াড় মারিয়ানো নাভোনে। খেলার ফলাফল ছিল ৬-৭ (৫-৭), ৭-৫, ৬-৪, ২-৬, ১-৬। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এই প্রথম কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডেই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন জোকোভিচ। এর সুবাদে গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে তাঁর টানা ৭৮টি ম্যাচ জয়ের দীর্ঘ রেকর্ডও ভেঙে গেল।
অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই (Novak Djokovic)
ম্যাচ চলাকালীন প্রচণ্ড আর্দ্রতা এবং ভ্যাপসা গরমে জোকোভিচের শরীর একেবারেই সঙ্গ দিচ্ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁকে বারবার মাথায় বরফের ব্যাগ চাপাতে দেখা যায়। স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ হওয়ার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি, উল্টে তিনি ম্যাচ সুপারভাইজারের কাছে এয়ার কন্ডিশনার চালানোর অনুরোধ জানান। বিশেষ করে তৃতীয় সেটের ষষ্ঠ গেমে শারীরিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, যেখানে তাঁকে একাধিকবার বমি করতে দেখা যায়। ফিজিওর দেওয়া ওষুধ ও মাঠের সাইডলাইন থেকে প্রয়োজনীয় তরল নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ৩৯ বছর বয়সি তারকা। শারীরিক চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও টেনিস কোর্টে তাঁর জেদ ও লড়াকু মানসিকতা তখনও বজায় ছিল।
নাভোনির প্রতিরোধ (Novak Djokovic)
প্রথম সেট টাইব্রেকারে হারের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান জোকোভিচ। দ্বিতীয় সেট ৭-৫ এবং তৃতীয় সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে তিনি ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। দেখে মনে হচ্ছিল, আরও একবার বুঝি কোনও অসাধ্য সাধন করতে চলেছেন তিনি। তবে সহজেই হাল ছাড়েননি ২৫ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন তারকা মারিয়ানো নাভোনে। চতুর্থ সেট ৬-২ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে সমতা ফেরান তিনি। এরপর পঞ্চম ও অন্তিম সেটে শুরু থেকেই জোকোভিচের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন নাভোনে।
আরও পড়ুন: Emiliano Martinez: চেলসিতে যোগ দিলেন মার্টিনেজ
রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষা (Novak Djokovic)
পঞ্চম সেটে নাভোনে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর কার্যত ভেঙে পড়েন জোকোভিচ (Novak Djokovic)। শারীরিক ক্লান্তি এবং ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার হতাশায় কোর্টের মধ্যেই তাঁর চোখের কোণে জল চলে আসে। গ্যালারিতে উপস্থিত তাঁর স্ত্রী জেলেনাকেও অত্যন্ত বিচলিত ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ৬-১ সেটে পঞ্চম সেট জিতে কেরিয়ারের অন্যতম বড় জয়টি নিজেদের নামের পাশে লেখেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৪৯ নম্বর মারিয়ানো নাভোনে। এই হারের ফলে জিমি কোনর্সের ইউএস ওপেনে ৯৮টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো এবং জোকোভিচের সামনে এখন কেরিয়ারের অন্তিম মুহূর্ত নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় চলে এল।



