Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চাঁদনি চকের ব্যস্ততা পেরিয়ে এমন একটি জায়গায় ঢুকলে, কয়েকশো বছর পিছিয়ে যেতে পারো (Heritage Library)। হারদয়াল মিউনিসিপ্যাল হেরিটেজ পাবলিক লাইব্রেরির পথচলা শুরু হয়েছিল ১৮৬২ সালে। ১৯১৬ সালে এটি চাঁদনি চকের বর্তমান ভবনে চলে আসে। একসময়কার এই পাঠাগারে ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার বই, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ছিল দুর্লভ সংগ্রহ।
আশ্চর্যের বিষয় (Heritage Library)
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই তাকগুলিতে রয়েছে ১৬৩৪ সালের একটি বই, ১৬৭৬ সালের পুরনো গ্রন্থ, হাতে লেখা প্রায় ৩৫০টি বই ও পাণ্ডুলিপি এবং ফারসি ভাষায় মহাভারতের ঐতিহাসিক সংস্করণ। কয়েক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও বইগুলির পাতায় আজও ধরা রয়েছে সেই সময়ের জ্ঞানচর্চা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ছাপ। দিল্লির কোলাহলের মধ্যেই এই লাইব্রেরি যেন সময়ের একটি দরজা, যেখানে প্রতিটি পুরনো বই তোমাকে নিয়ে যেতে পারে অন্য এক যুগে।
পাবলিক লাইব্রেরি (Heritage Library)
চাঁদনি চকের ব্যস্ত রাস্তা, দোকানের ভিড় আর সারাক্ষণের কোলাহলের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে দিল্লির ইতিহাসের এক অসাধারণ ভাণ্ডার হারদয়াল মিউনিসিপ্যাল হেরিটেজ পাবলিক লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরির পথচলা শুরু ১৮৬২ সালে। তখন এর নাম ছিল লরেন্স ইনস্টিটিউট লাইব্রেরি। পরে ১৯১৬ সালে এটি চাঁদনি চকের বর্তমান ভবনে চলে আসে। আজকের ব্যস্ত পুরনো দিল্লির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী ভবন এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বই, পাণ্ডুলিপি এবং দিল্লির সাংস্কৃতিক স্মৃতি আগলে রেখেছে।
সংরক্ষণ করা (Heritage Library)
লাইব্রেরিটির নামও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। একসময় এটি হার্ডিঞ্জ মিউনিসিপ্যাল পাবলিক লাইব্রেরি নামে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় হারদয়াল লাইব্রেরি। বর্তমানে এর পূর্ণ নাম হারদয়াল মিউনিসিপ্যাল হেরিটেজ পাবলিক লাইব্রেরি। নামের পরিবর্তন হলেও এর মূল দায়িত্ব একই থেকেছে—বই এবং ঐতিহাসিক নথিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা।
অলংকৃত ঐতিহাসিক নথি (Heritage Library)
২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, লাইব্রেরিতে ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার বই। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ছিল দুর্লভ বই। সংগ্রহে রয়েছে ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, আরবি, ফারসি এবং সংস্কৃত ভাষার বই। তবে এই সংগ্রহের গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়। এখানে এমন বহু বই রয়েছে, যেগুলির বয়স কয়েক শতাব্দী। পুরনো মুদ্রিত গ্রন্থের পাশাপাশি রয়েছে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, ধর্মীয় গ্রন্থের অনুবাদ এবং অলংকৃত ঐতিহাসিক নথি।
সমাজেরও সাক্ষ্য বহন (Heritage Library)
এই সংগ্রহের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন ‘রিলেশন অব সাম ইয়ার্স’, যার প্রকাশকাল ১৬৩৪। অর্থাৎ দিল্লির এই লাইব্রেরির তাকেই প্রায় চারশো বছরের পুরনো একটি মুদ্রিত বই সংরক্ষিত রয়েছে। আবার স্যার ওয়াল্টার র্যালির ‘হিস্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর ১৬৭৬ সালের একটি সংস্করণও এখানে রয়েছে। কয়েক শতাব্দী আগে ছাপা এই বইগুলি শুধু পড়ার উপকরণ নয়, সেই সময়ের মুদ্রণপ্রযুক্তি, জ্ঞানচর্চা এবং সমাজেরও সাক্ষ্য বহন করে।
ফারসি অনুবাদের ইতিহাস (Heritage Library)
দুর্লভ সংগ্রহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি। ২০২১ সালের সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০টি হাতে লেখা বই ও পাণ্ডুলিপি বিশেষভাবে সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ১৮০০ সালের হাতে লেখা ‘ভাগবত মহাপুরাণ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। রয়েছে ফারসি ভাষায় মহাভারতের একটি ঐতিহাসিক সংস্করণ, যার সঙ্গে মুঘল সম্রাট আকবরের দরবারে মহাভারতের ফারসি অনুবাদের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
বিশেষ মূল্যবান (Heritage Library)
লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা পুরনো দিল্লি গেজেটের সংখ্যাগুলিও বিশেষ মূল্যবান। ১৯১৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত গেজেটের সংরক্ষিত সংখ্যাগুলি দিল্লির প্রশাসন, সমাজ এবং শহরের পরিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এখানে শুধু সাহিত্য বা ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, একটি শহরের দীর্ঘ প্রশাসনিক ইতিহাসও তাকের মধ্যে ধরে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee PA: সুমিত রায়ের আগাম জামিন শুনানিতে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ নিয়ে সরব সুপ্রিম কোর্ট
ইতিহাসের ছাপ
চাঁদনি চকের প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে তাই এই লাইব্রেরি অনেকটা সময়ের আলাদা দরজা খুলে দেয়। বাইরে বদলে যেতে থাকা দিল্লি, আর ভিতরে কয়েকশো বছরের পুরনো বই, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি এবং ঐতিহাসিক নথি—একই জায়গায় পাশাপাশি অবস্থান করছে। ১৮৬২ সালে শুরু হওয়া এই পাঠাগারের সংগ্রহে আজও এমন বহু নিদর্শন রয়েছে, যেগুলির পাতায় ছাপা অক্ষরের পাশাপাশি ধরা আছে ভারতের জ্ঞানচর্চা ও দিল্লির দীর্ঘ ইতিহাসের ছাপ।



