Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল : শুভ চক্রবর্তী: নিম্নচাপের একটানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার জেরে ফের একবার বন্যা পরিস্থিতির কবলে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমা (Ghatal Flood)। এই নিয়ে চলতি মরসুমে টানা তিনবার জলমগ্ন হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর ঘাটাল, চন্দ্রকোনা সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। একদিকে নদীর উপচে পড়া জল, অন্যদিকে আকাশের মুখভার দুইয়ের জেরে সময় যত এগোচ্ছে, ততই হু হু করে বাড়ছে জলস্তর। ফলে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক গ্রাম ও পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড।
স্থানীয় সূত্রে খবর (Ghatal Flood)
গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির পর দামোদর ও কংসাবতী অববাহিকার জলাধারগুলি থেকে জল ছাড়ায় ঘাটালের শিলাবতী, কেলেঘাই ও ঝুমি নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। গ্রামীণ এলাকার বিঘার পর বিঘা চাষের জমি ইতিমধ্যেই জলের তলায়। বহু কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পানীয় জলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে দুর্গত এলাকাগুলিতে।এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ, বন্যা যেন এখন তাঁদের জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা (Ghatal Flood)
প্রতি বছর জল বাড়লেই প্রশাসনের তরফে বা ত্রিপল বিলি করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয় না। জলযন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন মহকুমাবাসী।এই বিপর্যয়ের মাঝেই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে রাজনৈতিক তরজা ও ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাস।
স্থানীয় মানুষের অভিযোগ (Ghatal Flood)
বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের সময়কাল পর্যন্ত, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে কেবল প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নির্বাচনের আগে প্রতিবার এই প্রকল্প নিয়ে বড় বড় দাবি করা হলেও, বর্ষা এলেই সেইসব প্রতিশ্রুতি জলের তলায় তলিয়ে যায়।
আরও পড়ুন : Darjeeling Loco Shed Collapse: টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিংয়ে ভাঙল ঐতিহাসিক লোকোশেড, আহত ৮ রেলকর্মী
আপাতত জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ঘাটাল মহকুমার কয়েক লক্ষ মানুষ। যদিও মহকুমা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বত্রভাবে প্রস্তুত প্রশাসন।



