Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা মানেই বই, আর বই মানেই কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহ্য। সেই শহরের শশীভূষণ দে স্ট্রিটে দেখা গেল এক বেদনাদায়ক ছবি (College Street)। রাস্তার ধারে স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের শত শত পুরোনো ও দুষ্প্রাপ্য বই। ধুলো-ময়লা, বৃষ্টি এবং যানবাহনের ধাক্কায় দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে বইগুলি। সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন-সহ নানা বিষয়ের এমন বহু বই রয়েছে, যেগুলির অনেকগুলিই হয়তো আজ আর সহজে পাওয়া যায় না।
মলাট ছিঁড়ে যাচ্ছে অমূল্য সম্পদ (College Street)
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শুধু অবহেলায় পড়ে থাকাই নয়, কয়েকজন শ্রমিককে দেখা গিয়েছে বইগুলির পুরোনো মলাট ছিঁড়ে ফেলতে। তালিকায় রয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমল করের মতো বিশিষ্ট সাহিত্যিকের বই। শ্রমিকদের দাবি, পুরোনো মলাট ‘চলে না’, তাই নতুন মলাট লাগিয়ে বইগুলি ফের বিক্রির জন্য পাঠানো হবে।
কলেজ স্ট্রিটে যাবে, তবু কেন এমন নির্মম অবহেলা? (College Street)
বই বিক্রেতার কথায়, পুরোনো সেকেন্ড-হ্যান্ড বই কম দামে কেনা হয় এবং পরে কলেজ স্ট্রিটে সরবরাহ করা হয়। এমনকী কিছু বই কাগজের দামেও চলে যায়। এখানেই উঠছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যদি বইগুলি পুনরায় বাঁধাই করে পাঠকের হাতে তুলে দেওয়াই উদ্দেশ্য হয়, তবে রাস্তায় ফেলে রেখে কেন সেগুলিকে নষ্ট করা হবে? কেনই বা অমূল্য বইয়ের মূল্য কেবল কাগজের দরে নির্ধারিত হবে?
আরও পড়ুন:Tourism Development: ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পর্যটনের নতুন দিশার সূচনা
সংরক্ষণের বদলে কাগজের দরে ঐতিহ্য বিক্রি!
পুরোনো বই কোনও সাধারণ কাগজের স্তূপ নয়। একটি বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকতে পারে একটি সময়ের সাহিত্য, সমাজ, ইতিহাস এবং মানুষের জীবনযাত্রার দলিল। তাই দুষ্প্রাপ্য বই চিহ্নিত করে সংরক্ষণের জন্য গ্রন্থাগার, প্রকাশনা সংস্থা, বই ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।



