Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শহরের এক (Paramatmananda Maharaj) সনাতনী সমাবেশে এসে এক হিন্দিভাষী বাবা সার্টিফিকেট দিচ্ছেন যারা আমিষ খান তারা পাখন্ডী। আমিষ খাবার নাকি ‘গন্দা গন্দা’ খাবার। রামকৃষ্ণ দেব, শ্রী শ্রী মা সারদা, বিবেকানন্দের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাঙালির এহেন অপমান! বাঙালি তো সহ্য করবে না। এই বিষয়ে কে টিভি বাংলার পক্ষ থেকে জগদ্গুরু শ্রীমৎ স্বামী পরমাত্মানন্দজী মহারাজ-এর সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনিও এর ঘোর বিরোধিতা করেন। স্পষ্ট জানান খাদ্যাভ্যাস যার যার নিজস্ব।
দেবী ‘মদ্য-মাংস-বলিপ্রিয়া’ (Paramatmananda Maharaj)
পরমাত্মানন্দজী মহারাজ (Paramatmananda Maharaj) বলেন, “সবার প্রথমেই বলি, খাদ্যাভ্যাস এবং উপাসনা যার যার নিজস্ব। আমরা যারা বাঙালি, তারা ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। আমাদের যে শক্তি সাধনার শাস্ত্র, তন্ত্রশাস্ত্র-তাতে প্রতি পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে আমিষের দ্বারা দেবী পূজার কথা বলা আছে। দেবীকে বলা হয়েছে ‘মদ্য-মাংস-বলিপ্রিয়া’। যিনি মদ্য, মাংস ও বলিদানের দ্বারা প্রীত হন, তাঁর পূজায় আমিষ ব্যবহার হবে-এটা অতি স্বাভাবিক।
বাঙালি আবহমান কাল ধরে, কয়েকশো বছর ধরে তাঁর মায়ের ভোগের থালায় আমিষ সাজাচ্ছে। সেখানে একাধিক প্রকারের মাছের ব্যবহার হয়েছে, বলির মাংস মহাপ্রসাদ রূপে দেবীকে নিবেদন করা হয়েছে এবং প্রসাদী মাংস গ্রহণের বিধি-বিধানও আছে।”

জ্যান্ত দুর্গার প্রসঙ্গ (Paramatmananda Maharaj)
মা সরদার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি (Paramatmananda Maharaj) বলেন, “আমরা জ্যান্ত দুর্গা বলতে যাকে বুঝি, সেই জগৎজননী মা সারদা নিজে হাতে বলির মাংস রান্না করে ভক্তদের খাইয়েছেন; প্রসন্ন মামাসহ তাঁর বাড়ির লোকজনকে সেবা করিয়েছেন। স্বামীজি নিজে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমিষ আহার করেছেন, চেটেপুটে খেয়েছেন। শেষের দিনে গঙ্গা থেকে ইলিশ ধরে এনে, সেই ইলিশ যখন মঠে বিক্রি করা হয়েছে, স্বামীজি তা কিনেছেন; ইলিশ মাছ দিয়ে তিন-চার রকমের পদ রান্না করেছেন (ইলিশ মাছের টকসহ) এবং বেশ তৃপ্তি করে খেয়েছেন। আর আমাদের ঠাকুর-তিনিও প্রতিদিন শিঙি মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খেতেন; শিঙি মাছ ছাড়া পেটের রোগা ঠাকুরের তৃপ্তি আসত না।”

বাগেশ্বর বাবার উদ্ধত অসভ্যতা!
বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে অসমর্থন করে জগদ্গুরু বলেছেন, “স্বভাবতই, বাঙালিকে দুর্গাপূজা সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনো তীর্যক মন্তব্য করা-এটা প্রগলভতা নয়, এটা একটা উদ্ধত অসভ্যতা। শুধু তাই নয়, তারাপীঠের বামক্ষ্যাপা, রাজা রামকৃষ্ণ, কমলাকান্ত, রামপ্রসাদ সেন-এমন আর কত সাধকদের কথা, সিদ্ধপুরুষদের কথা, বাঙালি সিদ্ধপুরুষদের কথা বলব, যারা আজীবন মাছে-ভাতে থেকেছে, মহাভোগ-মহাপ্রসাদ রূপে দেবীকে তা অর্পণ করেছে।
ফলে কোনো ভিন্ন রাজ্য থেকে কোনো ধর্মগুরু এসে আমাদেরকে ধর্মের শিক্ষা দিয়ে যাবে, এটা বাঙালি হিসেবে মেনে নিতে আমরা কখনোই পারি না। এবং আমিষ রান্নাকে ‘গান্দা খাবার’ বলা… কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি যে হিন্দু ধর্মকে ‘গান্দা ধর্ম’ বলেছিল এক মহররমের মঞ্চ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী; তার যে দশা হয়েছে, কালের বিচারে এই বাগেশ্বর বাবা বা অদ্ভুত বাবারও সেই একই দশা হবে।”
আরও পড়ুন: Tarapith: মা তারার টানে তারাপীঠে জনস্রোত, হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি!
কটাক্ষের সুরও শোনা গেছে মহারাজের কণ্ঠে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “কোনো দেশে আসতে গেলে, কোনো জায়গায় আসতে গেলে, সেখানকার আচার-আচরণ, কৃষ্টি-সংস্কৃতি, সেখানকার মানুষের ভাব-ভক্তি-বিশ্বাস সম্পর্কে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করে তারপর সেখানে আসা উচিত। বাচ্চা ছেলে, হোমওয়ার্ক করার হয়তো সুযোগ-সুবিধা পায়নি, সময় পায়নি; ফলে এরকম উদ্ধত মন্তব্য করে সে বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত করেছে, বাঙালিকে অপদস্থ করেছে এবং বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজাকে সে কলঙ্কিত করেছে। অতএব, আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে যাতে সে বাংলায় এসে অন্তত তার উত্তরপ্রদেশীয় ধর্মের জ্ঞান, গো-বলয়ের ধর্মের জ্ঞান এখানে ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকছি।”


