Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অমল চক্রবর্তী : সিঙ্গুরে শিল্পায়ন নিয়ে বিতর্কের প্রায় দুই দশক পর ফের নতুন করে আলোচনায় এল সেই জমি (Singur Viswakarma Puja)। শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার পুজোকে কেন্দ্র করে এবার সরব হলেন সিঙ্গুরের একাংশের কৃষকরা। তাঁদের দাবি, যে জমি একসময় শিল্পের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেই জমিতে আবার শিল্প গড়ে উঠুক। সেই বার্তাই বিশ্বকর্মা পুজোর মাধ্যমে সামনে আনলেন তাঁরা।

যে জমিতে শিল্পের স্বপ্ন (Singur Viswakarma Puja)
সিঙ্গুরের সিংহের ভেড়ি এলাকার মহাপ্রভু আশ্রমে, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনেই তৈরি হয়েছে বিশ্বকর্মা পুজোর মণ্ডপ। ঢাকের বাদ্যি আর পুজোর আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আবহ। সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর মূল বক্তব্য—শিল্পের জন্য যে জমি একসময় চিহ্নিত হয়েছিল, সেখানে আবার শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি করা।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বিশ্বকর্মার আরাধনার মধ্য দিয়ে তাঁরা সিঙ্গুরের মাটিতে শিল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা নতুন করে তুলে ধরতে চাইছেন। পাশাপাশি এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের দাবিও আরও জোরালো করতে চাইছেন তাঁরা (Singur Viswakarma Puja)।

কৃষকদের একাংশের দাবি (Singur Viswakarma Puja)
ইচ্ছুক চাষি স্নেহাশীষ পালের দাবি, তাঁদের পরিবারের কয়েক বিঘা জমি শিল্পের জন্য দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, জমিগুলির একটি অংশ ছিল নিচু এবং জলমগ্ন এলাকা। শিল্পের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর অভিযোগ, কারখানা তৈরির উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে জমি কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
আরও এক কৃষক শক্তিপদ মুখার্জির দাবি, এখন ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক নির্বিশেষে বহু মানুষ এলাকায় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। তাঁর মতে, শিল্প এলে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
‘জমি কাজে লাগুক’, দাবি বিধায়কেরও
কৃষক ক্ষুদিরাম মণ্ডলের বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই দাবি। তাঁর কথায়, জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে কারখানা তৈরি হলে বহু মানুষের উপকার হতে পারে।
সিঙ্গুরের বিধায়ক অরূপ কুমার দাসও জানিয়েছেন, সিঙ্গুরে শিল্পায়নের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, বর্তমানে জমির যে অবস্থা, তাতে কৃষিকাজের উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাই জমিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: Major Rishabh Singh Sambyal: ১২ বছর সেনা পরিষেবার পর অবসর, পেনশন পাবেন কি মেজর ঋষভ?
বিশ্বকর্মা পুজো কি নতুন বার্তার সূচনা?
সিঙ্গুরের শিল্পায়নকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক বহু পুরনো। সেই বিতর্কের আবহেই শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার পুজো এবার যেন নতুন এক বার্তা সামনে আনল, সিঙ্গুরের জমিতে ফের শিল্পের স্বপ্ন দেখতে চাইছেন একাংশের মানুষ। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে কতটা রূপ পায়, সেটাই এখন দেখার।



