Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা চলচ্চিত্রের এক নীরব অথচ উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হল (Mithu Mukherjee)। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় আর নেই। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। একসময় বাংলা ছবির পর্দায় তাঁর সৌন্দর্য, অভিনয় এবং ব্যক্তিত্ব দর্শকের মনে তৈরি করেছিল আলাদা জায়গা। জনপ্রিয়তার শিখরে থেকেও পরবর্তীকালে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তাই তাঁর প্রয়াণের খবর যেন একই সঙ্গে ফিরিয়ে আনল এক হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি।
সাতের দশকে পর্দায় মিঠুর নিজস্ব জাদু (Mithu Mukherjee)
সাতের দশকের বাংলা ছবিতে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা এবং সাবলীলতা। ক্যামেরার সামনে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি সহজেই দর্শকের নজর কেড়ে নিত। সেই সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের ভিড়েও মিঠু নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলিতে কখনও ছিল প্রেমের আবেগ, কখনও প্রাণচাঞ্চল্য, আবার কখনও ছিল ভিন্ন ধরনের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ।
‘স্বয়ংসিদ্ধা’ থেকে ‘মৌচাক’, স্মৃতিতে অমলিন (Mithu Mukherjee)
‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’, ‘মৌচাক’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’—একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন মিঠু। প্রতিটি ছবিতে নিজেকে একই ছকে আটকে রাখেননি তিনি। চরিত্র অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন নিজেকে। তাঁর অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং পর্দায় সহজ উপস্থিতিই তাঁকে সমসাময়িক অভিনেত্রীদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। সৌন্দর্যের জন্য যেমন পরিচিত ছিলেন, তেমনই অভিনয়ের জন্যও তৈরি করেছিলেন নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা।
জনপ্রিয়তার শিখরেই কেন বেছে নিলেন অন্তরাল? (Mithu Mukherjee)
মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলির একটি ছিল তাঁর আচমকা অন্তরালে চলে যাওয়া। জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, তখনই ধীরে ধীরে নিজেকে জনসমক্ষ থেকে সরিয়ে নেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবরই ছিলেন অত্যন্ত গোপনীয়। সুচিত্রা সেনের পর বাংলা চলচ্চিত্রে এমন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর উদাহরণ খুবই বিরল, যিনি খ্যাতির আলোয় থেকেও শেষ পর্যন্ত সেই আলো থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
‘আশ্রিতা’তেই শেষ, প্রযোজনাতেও রেখেছিলেন ছাপ (Mithu Mukherjee)
মিঠু মুখোপাধ্যায়ের শেষ ছবি ‘আশ্রিতা’। ছবিটি দর্শকের কাছে সাড়া ফেলেছিল। শুধু অভিনয়ই নয়, ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ‘আশ্রিতা’-র পর তাঁর সামনে কাজের আরও সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণ না করে তিনি বেছে নেন ব্যক্তিগত, নিভৃত জীবন। ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের গ্ল্যামার, প্রচার এবং জনসমক্ষের উপস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
অন্তরালে থেকেও বাংলা সিনেমার স্মৃতিতে
জীবনের শেষ অধ্যায়টি লোকচক্ষুর আড়ালে কাটলেও মিঠু মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র-জীবন থেকে যায় দর্শকের স্মৃতিতে। তাঁর সৌন্দর্য, অভিনয়, স্বাতন্ত্র্য এবং নিজেকে আড়ালে রাখার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে তিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। পর্দার আলো থেকে বহু দূরে সরে গিয়েও সেই আলো মুছে যায়নি। বরং তাঁর প্রয়াণের পর আরও একবার ফিরে এসেছে সাতের দশকের সেই বাংলা ছবির দিনগুলি। মিঠু মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি এবং পর্দায় তৈরি করা সেই নিজস্ব আবহ থেকে গেল বাংলা চলচ্চিত্রের স্মৃতির ভাঁজে।



