Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র স্বপ্ন কার্যত শেষ (East Bengal vs Chennaiyin FC)। যুবভারতীতে হারের পর সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে। অতীত ভুলে আইএসএলে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য ছিল লাল-হলুদের। কিন্তু চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে পাঁচ গোল হজম করে সেই লক্ষ্যপূরণ তো হলই না, বরং আরও বড় ধাক্কা খেল মশাল ব্রিগেড। দীপাবলির ঠিক আগে ৫-৩ গোলে হেরে একরাশ হতাশা নিয়েই চেন্নাই থেকে ফিরতে হচ্ছে হাবাসের দলকে। ফলে আইএসএলে জয়ের হ্যাটট্রিকও অধরা থেকে গেল।
ম্যাচের আগে দুই দলের চিন্তা (East Bengal vs Chennaiyin FC)
ম্যাচের আগে শেষ পাঁচটি ম্যাচের পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছিল না কোনও দলকেই। চেন্নাইয়িনের ঝুলিতে ছিল দু’টি ড্র ও তিনটি হার। শেষ ম্যাচে কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল তারা। অন্যদিকে, শেষ পাঁচ ম্যাচে দু’টি জয়, একটি ড্র ও দু’টি হার নিয়ে চেন্নাইয়ে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শুরুর আগে প্রয়াত স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস ডি মিগুয়েলের স্মৃতিতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ফুটবলাররা।
প্রথমার্ধেই চেন্নাইয়ের দাপট (East Bengal vs Chennaiyin FC)
শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে চেন্নাইয়িন। মাত্র চার মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় তারা। ডান দিক থেকে ইরফান ইয়াদওয়াডের বাড়ানো ক্রস বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ছেড়ে দেন মাদিহ তালাল। পিছন থেকে উঠে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ব্রাইসন ফার্নান্ডেজ। মরশুমে এটাই ছিল তাঁর প্রথম গোল।

১১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল চেন্নাইয়িন। লং বল ধরে এগিয়ে গিয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন ইরফান। অন্যদিকে, অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের ক্রস থেকে হেড করে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন লালচুংনুঙ্গা। কিন্তু তাঁর হেড লক্ষ্যে ছিল না। উলটে ১৭ মিনিটে ফের গোল করে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে আরও চাপে ফেলে দেন ব্রাইসন। দূর থেকে তাঁর বাঁক খাওয়ানো শট পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। শুরুতেই কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে লাল-হলুদের রক্ষণ। ডিফেন্সে আনোয়ার আলির অভাবও বারবার চোখে পড়ছিল।
লোবার গোলে প্রত্যাবর্তনের আশা (East Bengal vs Chennaiyin FC)
২৯ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান কমায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল দখল করেন একে লোবা। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দেন তিনি। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

৩৫ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন চেন্নাইয়িনের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মাদিহ তালাল। তাঁর পরিবর্তে নামেন লালরিয়াতপুইয়া চংথউ। এর পরেই আবার আক্রমণে ঝড় তোলে স্বাগতিক দল। নিজেদের বক্সে ব্রাইসনকে ফাউল করেন জিকসন সিং। পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। ৪১ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি রামন আন্দ্রাদে। প্রথমার্ধ শেষ হয় চেন্নাইয়িনের ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়।
পেনাল্টিতে ব্যবধান কমালেন রামিরেজ (East Bengal vs Chennaiyin FC)
বিরতির পর জোড়া পরিবর্তন করেন হাবাস। পিভি বিষ্ণু ও বিপিন সিংকে তুলে এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং রোহিত দানুকে মাঠে নামান তিনি। ৪৭ মিনিটেই ব্যবধান কমানোর সুযোগ কাজে লাগায় ইস্টবেঙ্গল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সে হ্যান্ডবল করে বসেন চেন্নাইয়িন ডিফেন্ডার মহম্মদ সাহিফ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি রামিরেজ।
রক্ষণে বিপর্যয় (East Bengal vs Chennaiyin FC)
তবে সেই গোলের পরেও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি লাল-হলুদ। ৫১ মিনিটে ব্রাইসনের জোরালো শট কোনওক্রমে বাঁচান গোলকিপার গিল। কিন্তু ৫৮ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পরিবর্ত হিসেবে নামা রিয়াতের শট থেকে বল পেয়ে যান ইরফান। কাছ থেকে বলের দিক পরিবর্তন করে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি।

পাঁচ গোলের লজ্জা (East Bengal vs Chennaiyin FC)
একের পর এক গোল হজম করে চাপে পড়ে আবারও জোড়া পরিবর্তন করেন হাবাস। একে লোবার পরিবর্তে ডেভিড এবং লালচুংনুঙ্গার জায়গায় হার্দিক ভাটকে নামান তিনি। কিন্তু তাতেও ছবিটা বদলায়নি। ৬৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে রামনের মাপা পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইরফান। চেন্নাইয়িনের স্কোর তখন ৫-২।

এর পরেও গোলের ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক দল। ৭৩ মিনিটে গোলকিপার গিলকে একা পেয়েও বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন রামন। বাকি সময়েও একের পর এক আক্রমণে লাল-হলুদ রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে চেন্নাইয়িন। গিল একাধিকবার দলকে রক্ষা না করলে হারের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
আরও পড়ুন: Neymar Father: স্যান্টোসে বড় দায়িত্বে নেইমারের বাবা
হতাশার হার (East Bengal vs Chennaiyin FC)
সংযুক্ত সময়ে ডেভিডের গোলে ব্যবধান কমায় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলে জয় তুলে নেয় চেন্নাইয়িন এফসি (East Bengal vs Chennaiyin FC)। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র হতাশার পর আইএসএলেও এমন বড় হার নিঃসন্দেহে হাবাসের দলের কাছে বড় ধাক্কা। পাঁচ গোল হজম করে চেন্নাই থেকে ফেরা ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।



