Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা শহরে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI (Kolkata Municipal Corporation)। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তের স্বার্থে এবার কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কাছে চাওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি, অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং রিপোর্ট।
বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে CBI-এর নজরে কলকাতা
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ৪২টি বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অভিযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। ক্যানাল ইস্ট রোড, রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা ও নারকেলডাঙা-সহ একাধিক এলাকায় তদন্ত ও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুরসভার কাছে কোন কোন নথি চাইল CBI? (Kolkata Municipal Corporation)
তদন্তের অংশ হিসেবে বেআইনি বলে চিহ্নিত ভবনগুলির অনুমোদন সংক্রান্ত নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য চেয়েছে CBI। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, তদন্তকারী সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ও রিপোর্ট প্রস্তুত করে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলির অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং পুরসভার নথিভুক্ত তথ্যও তদন্তের আওতায় আসছে।
২৯, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেশি নির্মাণ? (Kolkata Municipal Corporation)
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চিহ্নিত ৪২টি বাড়ির মধ্যে ২৯, ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি নির্মাণের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি। বিল্ডিং বিভাগ সূত্রের দাবি, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডেই সবচেয়ে বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডে নির্মাণ সংক্রান্ত নথি ও অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
তিন দশকের পুরনো বাড়ি, জটিলতা কোথায়? (Kolkata Municipal Corporation)
তদন্তে চিহ্নিত বাড়িগুলির অধিকাংশই প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছরের পুরনো বলে জানা গিয়েছে। এত পুরনো নির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ করা সম্ভব, তা নিয়েই পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের অন্দরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুরনো নথি, নির্মাণের সময়কার অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে ভবনগুলিতে কোনও পরিবর্তন হয়েছিল কি না—সেই তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হাইকোর্টে রিপোর্ট দেওয়ার প্রস্তুতি পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation)
চিহ্নিত বাড়িগুলির বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভা সূত্রের খবর, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সেই রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রিপোর্টে চিহ্নিত নির্মাণগুলির অবস্থান, সংশ্লিষ্ট নথি এবং পুরসভার কাছে থাকা তথ্য তুলে ধরা হতে পারে।
১৪ অক্টোবরের মধ্যে CBI-এর প্রাথমিক রিপোর্ট
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী CBI-কে আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে তদন্ত সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলে তার আগে পুরসভার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সেগুলি পর্যালোচনার কাজ আরও গতি পেতে পারে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের পাশাপাশি নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তে সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।



