Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যে পালা বদলের পর শিল্পী হাল ফেরানোয় জোর দিয়েছে বিজেপি সরকার (Suvendu Adhikari)। একাধিক শিল্প গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। এবার মুম্বইয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির বাড়ি অ্যান্টিলিয়া’ তে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার আম্বানি পরিবারের গণেশ পুজোয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, ভগবান গণেশের সামনে প্রার্থনা করে দেশের শান্তি, উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য আশীর্বাদ চেয়েছেন।

আম্বানি পরিবারের হাতে মা কালীর মূর্তি (Suvendu Adhikari)
গণেশ পুজোয় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মুকেশ আম্বানি ও তাঁর পুত্র অনন্ত আম্বানির সঙ্গেও রাজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বৈঠকও করেন শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে আম্বানি পরিবারের হাতে মা কালীর একটি মূর্তিও তুলে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এই স্মারক তাঁদের জন্য শুভকামনার প্রতীক।
বাংলায় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা? (Suvendu Adhikari)
এই সাক্ষাৎ ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে শিল্প ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, যা বাংলার যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

সিঙ্গুরের স্মৃতি টেনে প্রশ্ন বামেদের (Suvendu Adhikari)
এই সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে। বামেদের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, একসময় সিঙ্গুরে শিল্পবিরোধী আন্দোলনের সময় বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ বিজেপি নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই রাজনৈতিক অতীতের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান সরকার কি সত্যিই বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি তার হাত ধরে আনুষঙ্গিক শিল্প ও কর্মসংস্থানের পরিকাঠামো তৈরি করতে আগ্রহী?
বিশ্ব বাংলা সম্মেলনের পর এবার কি বাস্তব বিনিয়োগ? (Suvendu Adhikari)
গত কয়েক বছরে রাজ্যে শিল্প আনার লক্ষ্যে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন সহ একাধিক উদ্যোগ হয়েছে। বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে নানা ঘোষণা ও প্রচারও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কতটা নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান এবং শিল্প-সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। এবার আম্বানির মতো শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আরও পড়ুন: Bhangar College: ভাঙড় কলেজে উত্তেজনার পর গ্রেফতার ৪, আদালতে তোলা হবে ধৃতদের
ধর্মাচারণ, না কি শিল্পের বার্তা?
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—শুভেন্দু অধিকারীর আম্বানি-সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য কি শুধুই গণেশ পুজোয় অংশ নেওয়া, নাকি এর পিছনে বাংলায় বিনিয়োগ আনার বৃহত্তর পরিকল্পনাও রয়েছে? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ উঠে এলেও ভবিষ্যতে তার বাস্তব প্রতিফলন কতটা দেখা যায়, তার উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত কথার সঙ্গে কাজের কতটা মিল থাকে, নজর থাকবে সেদিকেই।



