Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: প্রোটিন শুধু পেশি গঠনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ (Protein Deficiency) নয়। চুল, নখ, ত্বক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শরীরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে বেশ কিছু সিম্পটমস দেখা দিতে পারে। তবে এই লক্ষণগুলোর অনেকগুলিই অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি হলেও পর্যাপ্ত প্রোটিন সবসময় থাকে না। তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়া, দুর্বলতা বা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
প্রোটিনের ঘাটতির সম্ভাব্য ১০ লক্ষণ (Protein Deficiency)
- অতিরিক্ত চুল পড়া (Protein Deficiency)
- চুলের গঠনে কেরাটিন নামের একটি প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে চুলের বৃদ্ধি ও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। তবে চুল পড়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে, যেমন স্ট্রেস, হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের ঘাটতি বা থাইরয়েডের সমস্যা।
- ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া
- নখ সহজে ভেঙে যাওয়া, ধীরে বাড়া বা নখের স্তর উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুষ্টির ঘাটতি এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
- পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি
- প্রোটিন পেশির গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয়। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে দুর্বলতা বা ক্লান্তির অনুভূতি হতে পারে।
- বারবার অসুস্থ হওয়া
- রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে থাকলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।
- ক্ষত সারতে দেরি হওয়া
- শরীরের টিস্যু মেরামত ও নতুন টিস্যু তৈরিতে প্রোটিন প্রয়োজন। তাই অপুষ্টির ক্ষেত্রে ক্ষত সারার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।
- পেশি কমে যাওয়া
- দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরি না পেলে শরীর পেশির টিস্যু ব্যবহার করতে শুরু করতে পারে। এর ফলে পেশির পরিমাণ কমে যাওয়া বা অকারণে ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
- ত্বক শুষ্ক ও অনুজ্জ্বল হয়ে যাওয়া (Protein Deficiency)
- ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও মেরামতের জন্যও প্রোটিন প্রয়োজন। সামগ্রিক অপুষ্টির ক্ষেত্রে ত্বকের স্বাস্থ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।
- বারবার খিদে পাওয়া
- প্রোটিন সাধারণত খাবারের পর দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। খাবারে প্রোটিন কম থাকলে দ্রুত আবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে বারবার খিদে পাওয়া বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলেই যে প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
- হাত-পা বা শরীরের অন্যান্য অংশে ফোলাভাব (Protein Deficiency)
- গুরুতর অপুষ্টি বা রক্তে প্রোটিনের মাত্রা অত্যন্ত কমে গেলে শরীরে তরল জমে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
- মনোযোগে সমস্যা ও দুর্বল লাগা
- পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে মানসিক সতর্কতা, মনোযোগ ও সামগ্রিক কর্মক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই ধরনের সমস্যার পেছনে ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, রক্তাল্পতা বা অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।
কাদের বেশি ঝুঁকি? (Protein Deficiency)
যাঁদের খাবারে নিয়মিত প্রোটিনের উৎস কম, তাঁদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন না পাওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বিশেষ করে
- খুব কম খাবার বা অত্যন্ত সীমিত ডায়েট অনুসরণ করলে
- দীর্ঘদিন ক্যালোরি কম খেলে
- নিরামিষ খাবারে পর্যাপ্ত ডাল, দুধ, দই, পনির, সয়া বা অন্যান্য প্রোটিনের উৎস না থাকলে
- অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকলে
- দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা হজমের সমস্যায় ভুগলে
আপনার খাবারে প্রোটিন কতটা আছে, কীভাবে বুঝবেন?
প্রথমে এক দিনের সম্পূর্ণ খাবারের তালিকা তৈরি করুন। সকালের ব্রেকফাস্ট (Protein Deficiency) থেকে রাতের খাবার এবং মাঝের স্ন্যাকস, সব লিখে রাখুন। এরপর ডাল, ডিম, দুধ, দই, পনির, মাছ, মাংস, সয়া, ছোলা, বাদামসহ প্রতিটি খাবার থেকে আনুমানিক কতটা প্রোটিন পাচ্ছেন, তা হিসাব করুন। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের প্রোটিনের প্রয়োজন বয়স, ওজন, শারীরিক সক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন হয় না।
ভারতীয় খাবারে সহজে প্রোটিন বাড়াবেন কীভাবে? (Protein Deficiency)
খাবারে সামান্য কিছু অদল বদল করেই প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।
সকালে: ডিম, দুধ, দই বা পনির যোগ করতে পারেন।
দুপুরে: ভাত বা রুটির সঙ্গে ডাল, ছোলা, রাজমা, সয়া বা পনির রাখুন।
বিকেলের জলখাবারে: ভাজা ছোলা, দই বা পরিমিত বাদাম বেছে নিতে পারেন।
রাতে: ডালের পাশাপাশি মাছ, ডিম, পনির, সয়া বা অন্য কোনো প্রোটিনের উৎস যোগ করুন।
আরও পড়ুন: Knife Attack: বুকে ছুরির আঘাত, গাড়ি থেকে উদ্ধার ভারতীয় এক ব্যক্তির নয় টুকরো দেহ…
চুল পড়া, ক্লান্তি, নখ ভেঙে যাওয়া বা বারবার খিদে পাওয়ার মতো লক্ষণ একাধিক শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই শুধু এই লক্ষণ দেখে নিজের প্রোটিনের ঘাটতি হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।


