Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আপনারা সব সময় এইরকম ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন কেন, যাতে বিতর্ক হয় (Election Commission)? বিচার ব্যবস্থাকে চিমটি কাটার জন্যই কি আপনারা এরকম সিদ্ধান্ত নেন? নির্বাচনের মুখেই আপনারা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, আর সব রাজনৈতিক দলগুলি আদালতে চলে আসে। যেন নির্বাচন শুরু হল, আর খেলাও শুরু হয়ে গেল!’- নওশাদ সিদ্দিকীর ‘খাম’ প্রতীক ফেরতের মামলায় কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের। কেন আইএসএফ-এর প্রতীক নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল না- নির্বাচন কমিশনের থেকে জবাব তলব বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের। আগামীকাল তথা শুক্রবার আবারও এই মামলার শুনানি।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ নৌশাদ (Election Commission)
‘খাম’ প্রতীক ফেরত চেয়ে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ‘খাম’ প্রতীক দিয়ে তাদের ‘আলমারি’ প্রতীক দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকী।
ভর্ৎসনার মুখে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)
বৃহস্পতিবার সেই মামলাতে হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে মামলাকারী নৌশাদ সিদ্দিকীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য সওয়ালে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে এমনকি চার মাস আগে হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনেও আমার মক্কেলের দল খাম প্রতীকেই গোটা রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কমিশন খাম প্রতীকটি সব দলের জন্যই ফ্রিজ করতে পারত। তাতে বিভ্রান্ত হতেন না। যেহেতু গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে খাম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে একটি দল, সেই প্রতীক এখন অন্য একটি দলকে দেওয়া হলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারে। কিন্তু প্রতিকটি যদি সব দলের জন্যই ফ্রিজ করা হত, তাহলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হত না।’
খাম প্রতীক ফ্রি সিম্বল! (Election Commission)
মাই মামলাকারিয়া আইনজীবীর এই বক্তব্যের জবাবে কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পান্ডে আদালতকে জানান, ‘২০২১ এবং ২০২৪ সালে মামলাকারীরা খাম প্রতীক ফ্রি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটা তাদের চয়েজ। নিয়ম অনুযায়ী কমিশনে এই রাজনৈতিক দল স্বীকৃত নয়। তাদের কোনও সংরক্ষিত প্রতীক নেই। তাই এর আগেও তাদের ফ্রি সিম্বল দেওয়া হয়েছিল। এখনও তারা সেই প্রতীক নিতে পারে। তারা সংরক্ষিত প্রতীকের দাবি করতে পারে না। সংরক্ষিত প্রতীক শুধুমাত্র স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের জন্য।’
ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত (Election Commission)
তা শুনেই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘আদালত সেই নিয়মের মধ্যে যাচ্ছে না। মূল নির্বাচনে প্রতীক দেওয়া হলে কয়েক মাস পরে উপনির্বাচনে সেই প্রতীক থাকবে না কেন? এটা তো কোনও নতুন নির্বাচন নয়! আপনারা সব সময় এইরকম ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন কেন, যাতে বিতর্ক হয়? বিচার ব্যবস্থাকে চিমটি কাটার জন্যই কি আপনারা এরকম সিদ্ধান্ত নেন? নির্বাচনের মুখেই আপনারা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন, আর সব রাজনৈতিক দলগুলি আদালতে চলে আসে। ১৮৩ টি প্রতীক রয়েছে। তার মধ্য থেকে দেওয়া গেল না! এই উপনির্বাচনেও কেন আপনারা অন্য দল গুলোর মতো এই প্রতীক সংরক্ষণ করলেন না?এটা কি ধরনের আচরণ? নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত কমিশনের। মাত্র চার মাস আগের নির্বাচনে যে প্রতীকটি একটি রাজনৈতিক দল ব্যবহার করেছিল, সেটা উপনির্বাচনে বদলে দিলেন! এখন আদালতকে রুল আইন দেখাচ্ছেন? যেন নির্বাচন শুরু হল, আর খেলাও শুরু হয়ে গেল!’
বিচারপতির প্রশ্ন (Election Commission)
এরপরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূলের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য্যর উদ্দেশ্যে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, ‘আপনারাও তো খুব ভালো করে জানেন, এই প্রতীকটি অন্য একটি রাজনৈতিক দল ব্যবহার করে। তাহলে আপনারাই বা কেন খাম প্রতীক চাইলেন?’ তার উত্তরে ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী আদালতকে জানান, ‘আমরা তিনটি প্রতীক দিয়েছিলাম। কিন্তু বাকিগুলো দেওয়া হয়নি। আমাদের চিহ্ন ফ্রিজ করে দেওয়া হয়।’
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কেন আইএসএফ-এর প্রতীক নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, তার জবাব কমিশনের থেকে তলব করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আগামীকাল তথা শুক্রবার আবারও এই মামলার শুনানি হবে। সেদিন এই নিয়ে কমিশনের জবাব শুনবে আদালত।



