Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অশান্তি আর মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আধ্যাত্মিকতার পথ বেছে নিয়েছিলেন এক তরুণী (Tarannath Kapalika)। বিশ্বাস করেছিলেন, ‘গুরুজি’র হাত ধরে হয়তো জীবনে ফিরবে শান্তি। কিন্তু সেই বিশ্বাসই কি শেষ পর্যন্ত তাঁকে ঠেলে দিল ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার দিকে? তন্ত্রসাধনা ও দীক্ষার আড়ালে যৌন নির্যাতন, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেল, মাদক খাইয়ে অসহায় করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তন্ময় ঘোষ ওরফে ‘গুরুজি তারানাথ কাপালিক অঘোরী’-র বিরুদ্ধে। অভিযোগকারিণীর দাবি, শুধু তিনি নন, আরও কয়েকজন মহিলাকে একইভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তন্ময়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আধ্যাত্মিকতার মুখোশের আড়ালে কি চলছিল অন্য কোনও খেলা? তদন্তেই মিলবে তার উত্তর।

দীক্ষার নামে শুরু সম্পর্ক? (Tarannath Kapalika)
অভিযোগ অনুযায়ী, আধ্যাত্মিকতার প্রতি আগ্রহের কথা জানতে পেরে তন্ময় তাঁকে ‘দীক্ষা’ দেওয়ার কথা বলেন। এরপর তন্ত্রসাধনার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর উপর প্রভাব বিস্তার করা হয় বলে দাবি। এমনকি পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় পদার্থ মেশানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, পরবর্তীতে তারাপীঠের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে মালাবদলের মাধ্যমে বিয়ের নাটক করে তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় (Tarannath Kapalika)।
ছ’মাস ধরে চলেছে মানসিক নির্যাতন? (Tarannath Kapalika)
অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রায় ছ’মাস ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্য বা মুহূর্তের ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেলেরও অভিযোগ উঠেছে। বাবা-মাকে জড়িয়ে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সম্পর্ক ছিন্ন করার পরেও তাঁকে আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে দাবি।
পরিবারের সদস্যদেরও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, তন্ময়ের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর তাঁকে এবং তাঁর বাবা-মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর নামে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অশালীন ও আপত্তিকর পোস্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ফলে নিজের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারিণী।
আরও মহিলাকে টার্গেটের অভিযোগ? (Tarannath Kapalika)
অভিযোগকারিণীর দাবি, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অথবা মানসিকভাবে দুর্বল মহিলাদের সঙ্গে প্রথমে সম্পর্ক তৈরি করা হত। পরে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করে টাকা দাবি করা হত বলে অভিযোগ। চাকরি দেওয়ার প্রলোভন, প্রতারণা এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। শম্পা দে এবং অভিজিৎ সরকারের নামও অভিযোগের সূত্রে উঠে এসেছে।

একাধিক মামলার উল্লেখ অভিযোগপত্রে (Tarannath Kapalika)
অভিযোগকারিণীর দাবি, তন্ময় ঘোষের বিরুদ্ধে এর আগেও যৌন হেনস্তা, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেল এবং অন্যান্য অভিযোগে মামলা হয়েছে। ১৩ মার্চ এবং ১৬ অগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
সমাজমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার তন্ময়ের
অন্যদিকে, তন্ময় ঘোষ সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বা শারীরিক চাহিদা অপরাধ নয়। তাঁর পাল্টা দাবি, ওই যুবতী দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গে থাকার পর তাঁকেই প্রতারণা করে চলে গিয়েছেন। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এখন তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগগুলি কতটা সত্য, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

অভিজিৎকে ঘিরেও উঠছে গুরুতর অভিযোগ
অভিযোগকারিণীর বক্তব্যে ইচ্ছাপুরের বাসিন্দা শম্পা দে এবং হাবড়ার বাসিন্দা অভিজিৎ সরকারের নামও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা দিনের বেলায় সাধুর পরিচয় দিলেও রাতের অন্ধকারে মহিলাদের মাদকজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাঁদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করতেন। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা তথ্যকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেল করা এবং লক্ষ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো কর্মকাণ্ডের মূল ব্যক্তি তন্ময় ঘোষ ওরফে ‘গুরুজি তারানাথ কাপালিক’। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, ব্ল্যাকমেল, প্রতারণা এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।



